নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

বাসের আহত যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার রমজান আলী জানান, ‘ট্রাকটি তার সঠিক লেনেই ছিল। বাসের চালক উল্টো লেনে গিয়ে ট্রাকের সামনে মেরে দিয়েছে। সম্ভবত আমদের বাসের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিল।’

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পৌর এলাকায় বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারুল আলম দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরআদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহরউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), একই উপজেলার ডুবি সাহাপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ (৩০) ও জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৬)।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, নাটোর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে শরীয়তপুর থেকে চাঁপাইনাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস আরপি স্পেশালের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরো ৫ জন মারা যান। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে জানান তিনি।

নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনায় আহত ২৬ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক, নাটোর জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাসের আহত যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার রমজান আলী জানান, ‘ট্রাকটি তার সঠিক লেনেই ছিল। বাসের চালক উল্টো লেনে গিয়ে ট্রাকের সামনে মেরে দিয়েছে। সম্ভবত আমদের বাসের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিল।’

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি রাস্তার ওপর থাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।

খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত