চাকরি হারানোর দুশ্চিন্তায় ব্যাংক পিয়নের মৃত্যু

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

সংসারে ছিল অনিশ্চয়তা আর স্ত্রী ও চার বছরের শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল গভীর দুশ্চিন্তা। চাকরি হারানোর পর জীবিকার সংকটে ভুগছিলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পিয়ন গাজী মোহাম্মদ হাসেম (৩৩)। শেষ পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসেমের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, চাকরি হারানোর পর সংসার চালানো এবং স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তার।

হাসেম পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মদন গাজী বাড়ির মৃত আহমদ নবীর ছেলে। তিনি বড়লিয়া ইউনিয়ন গাউছিয়া কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে পিয়ন পদে যোগ দেন হাসেম। প্রায় চার বছর চাকরি করার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এতে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর স্ত্রী ও চার বছরের ছেলে তানজিমকে নিয়ে সংসার চালাতে সংকটে পড়েন তিনি।

চাকরি হারানোর পর থেকেই পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও মানসিক চাপে ছিলেন হাসেম।

নিহতের বড় ভাই মো. কাসেম বলেন, চাকরিটা যাওয়ার পর থেকে আমার ভাই পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। অভাবের তাড়না আর মানসিক যন্ত্রণায় শেষ পর্যন্ত ও জীবনযুদ্ধে হেরে গেল।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ ও আন্দোলন চলছে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে বলেও তাদের দাবি। তবে চাকরিচ্যুতির সংখ্যা ও এর আইনগত অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

মাত্র ৩৩ বছর বয়সে হাসেমের মৃত্যুতে পরিবারটি একজন অভিভাবক হারিয়েছে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ। চার বছরের তানজিম হয়তো এখনো বুঝতে পারেনি, তার বাবা আর কখনো তাকে কোলে তুলে আদর করবেন না, শোনাবেন না কোনো গল্প।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত