কঙ্কালসার শরীর মাদুরের বিছনাতে লেপ্টে পড়ে আছেন। পাশে অন্য স্বজনরা বসে স্তব্ধ। ১১৫ বছরের অতি বৃদ্ধ মুনসুর আলীর জীবনে নেমে আসলো দুর্বিষহ এক কষ্ট। তবে শরীরে বাসা বাঁধা সব রোগের কষ্টের চেয়ে বহু কষ্ট জমলো মনে।
শেষ সময়ে এসে সন্তানের বাঁধার মুখে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি। সেই কষ্টে তিনি জর্জরিত। বাবার কাছ থেকে জমি লিখে বুঝে না পাওয়াতে ক্ষুব্ধ হয়ে অশীতিপর বৃদ্ধ বাবাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিতে পথ আটকে বাড়ির উঠানে টিনকাঠের বেড়া তুলে দিয়েছে বড় সন্তান।
এমনি নেক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টেবার) এ খবর জানাজানি হলে ইউএনও ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে নির্দেশ দেন ইউপি চেয়ারম্যানকে।
অসুস্থ মনসুর আলী ওই গ্রামের মৃত কাজীম উদ্দীনের ছেলে। অপর দিকে অভিযিক্ত ব্যক্তির নাম আবদুল কাদির (৭৫)। তিনি অসুস্থ মনসুর আলীর বড় ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান বৃদ্ধ বাবাকে (মনসুর আলী) হাসপাতালে নিতে বাঁধা দিচ্ছে সন্তান।এটা চরম কষ্টের। সন্তানের এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধ বাবাকে হাসপাতালে যাতে না নিতে পারে সে জন্য ঘরের সামনে (উঠানে) দেওয়া হয়েছে বেড়া। অনেক দিন ধরেই বৃদ্ধ মুনসুর আনী বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছেন।
ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে মো. আবু সাঈদ বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে আমাদের বাবা আজ মৃত্যু শয্যায়। বাবাকে চিকিৎসা করতে হাসপাতালে নিতে পারছিনা। বাসার সামনে টিনের বেড়া দেওয়া দিয়েছে বড় ভাই। তাকে জমি লিখে না দিলে বাবাকে চিকিৎসা করতে দিবেনা তা পরিস্কার করে জানিয়ে দেন। আমরা চরম অশান্তিতে পড়েছি। আত্নীয় স্বজন প্রতিবেশি সবাই অনুরোধ করলেও বড় ভাই আবদুল কাদির বাঁধা তুলে নিচ্ছেন না।
অভিযুক্ত ছেলে আবদুল কাদির বলেন, আমার অংশের জমি লিখে না দেওয়া পর্যন্ত বাবাকে হাসপাতালে নিতে দিবো না। এতে আমার জেল ফাঁস হলেও সমস্যা নেই। আমি এক কথার মানুষ।
ভোক্তভোগীর নাতি মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নানা খুবই অসুস্থ্য। নানাকে চিকিৎসা করানোর জন্য মা'কে নিয়ে আসছি। কিন্তু বড় মামার বাঁধার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির সামনে দেওয়া হয়েছে বেড়া। পরে নিরুপাড হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন মুরাদ বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় ইতিমধ্যে গ্রাম পুলিশের সদস্যের দ্বারা তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা তাকে উদ্ধার করে করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেছি।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এরি মধ্যে অসুস্থ্য বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।