‘মা, তুমি আবার এসো’ এই আকুতি আর ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের এসপি ব্রীজ এলাকায় করতোয়া নদীর ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। জেলায় চলতি বছরে ৭৩১টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাক ও ভ্যানে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা আসেন করতোয়া নদীর এসপি ব্রীজ, চাষীবাজার, ভাটকান্দি ব্রীজ, মালতীনগর, দত্তবাড়ি, ফুলবাড়ী, মাটিডালী ঘাটে। সেখানে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
গত শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়। ছয় দিন ধরে বগুড়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা চলে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন।
বিসর্জনের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সকাল থেকে চলে সিঁদুর খেলা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো। দেবীকে বিদায় জানানোর সময় অনেক ভক্তকে আবেগাপ্লত হতে দেখা যায়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে যান। এক বছর পর আবারও তিনি আসবেন মর্ত্যে। দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থেকেই ভক্তরা প্রার্থনা করেন, পৃথিবী থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, সবার জীবন হয়ে উঠুক সুখ ও শান্তিময়।
সনাতন ধর্মালম্বীরা জানান, গতবারের তুলনায় এবার অনেক নিরাপত্তায় এই আয়োজন সমাপ্তী হয়েছে। কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন তাদের হতে হয়নি। খুব সুন্দর ভাবে তারা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন।
বগুড়া মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, এবার সব মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সবার সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।