ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় আবদুল হক (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, যাত্রীবেশে আসা দুর্বৃত্তরা তার মাথায় আঘাত করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত আবদুল হক উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামের ওসমান হাওলাদারের ছেলে। প্রায় এক মাস আগে দেড় লাখ টাকা কিস্তিতে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন তিনি। এটি চালিয়েই দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসার চালাতেন।
নিহতের বড় ছেলে মোহাম্মদ শিফাত হোসেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদগাজী বাজার থেকে কয়েকজন যাত্রীবেশে তার বাবার অটোরিকশা ভাড়া করে বাংলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার বাবার মাথায় আঘাত করে সড়কে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে ফেসবুকে বাবার আহত হওয়ার ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শিফাত বলেন, বাবা কিস্তিতে অটো কিনেছিলেন। এক মাসও হয়নি। এখন বাবা নেই, অটোও নেই। আমরা একেবারে অসহায়। বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মুন্সী আবদুল কাইয়ুম জানান, আবদুল হক আগে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি সবজি বিক্রিও করেছেন। পরে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাগলনাইয়া-ফেনী সড়কের বাংলা বাজার ব্রিকফিল্ডের সামনে থেকে আবদুল হককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুল হকের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।