মতলব

রাতে মেঘনায় ইলিশ শিকার, দিনে প্রকাশ্যে বিক্রি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির জেলের বিরুদ্ধে। ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রাতে দলবেঁধে ইলিশ শিকার এবং দিনের বেলায় বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে তা বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও এ কার্যক্রম চলছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাছ ধরার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন জেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নদীতে অভিযান পরিচালনাকারীদের তৎপরতা থাকলেও এ সময়ের মধ্যেও কিছু জেলে জাল ফেলে মাছ শিকার করেন। বিকেল ৫টার পর অভিযান কমে গেলে দলবেঁধে নদীতে নামেন জেলেরা। রাতভর মাছ শিকার করে ভোরে নদীর তীরে এনে তা বিক্রি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

উপজেলার ষাটনল এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ষাটনলের বাবুবাজারে ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মাছের আড়তে মা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। এ সময় প্রশাসনের কোনো ঝামেলা থাকে না বলেও দাবি করেন তিনি।

আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা রুমান, সোহাগ ও আলাউদ্দিন জানান, দুপুর ১২টা থেকে আমিরাবাদ বাজারের নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হয়। কয়েক শ পাইকার সেখান থেকে ইলিশ কিনে অন্য এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। তাঁদের দাবি, এ বাজারে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়।

এ ছাড়া উপজেলার এখলাসপুর, মোহনপুর, দশআনী, মুক্তির পল্লী ও জনতার বাজার এলাকায়ও প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মতলব উত্তর উপজেলার জেলে জসিম উদ্দিন, খোরশেদ বেপারী, আয়নাল মিয়া ও নুরুল হকসহ কয়েকজন দাবি করেন, মৎস্য অফিস ও মোহনপুর নৌ-পুলিশকে ম্যানেজ করে তারা প্রতিটি নৌকার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, টোকেন ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে নামলে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হয়। তবে তাদের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমিরাবাদ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, মাছ না ধরলে মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। জেলেরা চরম অভাব-অনটনে রয়েছেন। জাল দিয়ে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। তাই সবকিছু ম্যানেজ করেই বাজার চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

রাতে মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ফোর্স কম, তাই রাতে অভিযান পরিচালনা করতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তারপরও আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।’

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, তাদের দপ্তরে জনবলসংকট রয়েছে। তারপরও নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযানে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত