সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহালের দাবি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় পরামর্শ সভা থেকে সরকারের কাছে এ দুটি দাবি জানানো হয়। 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর (দা.বা.) আহ্বানে আয়োজিত সভায় ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষ মুরুব্বিরা অংশ নেন।

সভা-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমা আয়োজনের জন্য তিন দিন ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। পরে তাঁদের মতামত নিতে এ জাতীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম দাবিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে।

দ্বিতীয় দাবিতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। সভায় জানানো হয়, মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা, মারকাজ ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজন করতে ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন ও মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত