২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের দাবি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী ও খাল খননের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সম্পাদিত চুক্তির আদলে নতুন চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে পানি, কৃষি, পরিবেশ, জ্বালানি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্রকল্প দুটির নকশা এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে পরিবেশ ও পানির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা যায়। এ ছাড়া অন্যান্য বড় অভিন্ন নদীতেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তাঁরা।

সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী ও খাল খনন এবং পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, নদী রক্ষায় প্রথমেই দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চিহ্নিত প্রায় ৬০ হাজার নদী দখলদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদী দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে বাধ্য করার দাবি জানান তাঁরা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, প্রকৌশলী ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. মহসীন আলী মন্ডল প্রিন্স ও মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ, মো. তাজুল ইসলাম ও ডা. বোরহান অরণ্য, সাংগঠনিক সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, জীববৈচিত্র্য সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাসিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মহসীনুল করিম লেবু, গাজীপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জামান ভূঞা, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. আজম খান, আব্দুল হালিম সরকার ও প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন।

আসন্ন শুষ্ক মৌসুমেই নদী খনন, পুনরুদ্ধার ও দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত