গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ভায়রাদের সঙ্গে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের প্রায় ৭২ ঘন্টা পর নাজমুল হুদা লিয়ন (৩৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার কাজলডোপ এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত নাজমুল হুদা লিয়নের বাড়ি গাইবান্ধা পৌরসভার পশ্চিমপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নাজমুল হুদা লিয়ন ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। পরেরদিন বুধবার সকালে বড় ভায়রা মাকসুদ মিয়ার বাড়ি বল্লমঝাড়ে দাওয়াত খেতে যান। পরের দিন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে লিয়ন ও তার স্ত্রী যুথি, নেহাল, সীমান্ত চারজন কাজলডোপ এলাকায় ঘাঘট নদীতে গোসল করতে যান। এসময় যুথি নদীর পাড়ে ছিল। বাকিরা নদীতে গোসলে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে দুইজন নদী থেকে তীরে উঠে আসতে পারলেও লিয়ন আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ওইদিন ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়। গাইবান্ধায় জেলায় ডুবুরি ইউনিট নেই। এ কারণে রংপুরের ডুবুরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৫ টা ৪০ মিনিটে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরেরদিন শুক্রবার সকালে আবার উদ্ধার অভিযানে নেমে বিকেলে ৫ টা ৪০ মিনিটে অভিযান সমাপ্ত করে ডুবুরি দল। আজ শনিবার আবার উদ্ধার অভিযান করে ডুবুরি দল। অবশেষে ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ওসি এসএম নাজমুল হুদা দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত প্রক্রিয়ার শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।