চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপিত হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার আটটি বৌদ্ধবিহার ও একটি মেডিটেশন সেন্টারে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় আকাশে রঙিন ফানুস উত্তোলন করা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, সীবলী পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাঁশখালী পৌরসভার জলদী ধর্মরত্ন বিহার, শীলকূপ জ্ঞানোদয় বিহার, বাঁশখালী কেন্দ্রীয় শীলকূপ চৈত্যবিহার, কাহারঘোনা মিনজিরিতলা সংঘরাজ অভয়তিষ্য পারিজাত আরাম বিহার, দক্ষিণ জলদী বিবেকারাম বিহার, পুইছড়ি চন্দ্রজ্যোতি বিহার, উত্তর জলদী বোধি চৈত্যবিহার, জলদী ধর্মচক্র প্রগতি বিহার ও উত্তর জলদী প্রজ্ঞাদর্শন মেডিটেশন সেন্টারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বৌদ্ধরা শান্তিপ্রিয় জাতি। তাঁরা তাঁদের প্রতিটি অনুষ্ঠান সুন্দর ও সাবলীলভাবে সম্পন্ন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রবারণা পূর্ণিমার অনুষ্ঠানও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।’
বৌদ্ধধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। দিনটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধর্মীয় অনুশীলনের বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা ও শীল গ্রহণের মতো ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক, সংগঠক ও সংবাদকর্মী কল্যাণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বৌদ্ধবিহারগুলোর প্রতিনিধিরা ফানুস উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।