প্রতি বছর ২২ অক্টোবর পালিত হয় নিরাপদ সড়ক দিবস। বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায়ই আন্দোলন হলেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। সড়ক নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের প্রত্যাশা, তুলে ধরেছেন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য
সবাইকেই সচেতন হতে হবে
কৌশিক ইমতিয়াজ
সড়কে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তা পার হওয়ার সময় চালক ও পথচারী উভয়েরই অসতর্কতা চোখে পড়ে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন মানেন না। এর সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও রাস্তার অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই। রাস্তায় দোকান বসানো, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতারও অভাব দেখা যায়। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই বাসের মাঝখানে পড়ে আহত হয়। সেখানে একটি বাস থাকার কথা, কিন্তু ছিল দুটি। চালক ও পথচারী সবাইকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। পরিবারের সবাই যেন নিরাপদে ঘরে ফেরে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশ
সরকারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
আদিব রেজা নাফি
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স প্রদান, সড়ক সংস্কার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব দুর্ঘটনার কারণ অনভিজ্ঞ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের নিয়মিত সংস্কার, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, র্যালি ও লিফলেট বিতরণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সড়কে চাই পরিকল্পিত উন্নয়ন
ইবনুল আরাবি
অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা হয়। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে রাস্তায় দ্রুত গর্ত তৈরি হয়। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকলেও সতর্কতামূলক সাইন দেওয়া থাকে না। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় না থাকার কারণে নির্মাণকাজ শেষ করে আবার খোঁড়াখুঁড়ি করা লাগে। অতিরিক্ত ওজন বহনকারী ট্রাক রাস্তার ওপর চাপ ফেলে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক লাইটের অভাব, যত্রতত্র স্পিডব্রেকার সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়ায়। সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এসবের রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করতে হবে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও যথাযথ তদারকি করলে এসব সমস্যা কমে আসবে।
শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
মাহবুবুল হাসান নিশান
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে সড়কে চলাচল ও রাস্তা পারাপারে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক স্থানে ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সিগন্যালের অভাবে রাস্তা পারাপারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি। পথচারীদের নিরাপত্তায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন এবং জনবহুল এলাকায় গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গাড়িচালক এবং পথচারী উভয়েই ট্রাফিক সংকেত মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই পথচারীবান্ধব সড়ক গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, স্থাপত্য বিভাগ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শুরু করতে হবে আমাদেরই
নাঈম ইফতেখার
প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে দেখি, বাসের দরজায় ঝুলছেন শিক্ষার্থীরা। হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার পাশেই ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছেন। পরিবর্তনের শুরুটা হোক আমাদের থেকেই। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করা, বাসের দরজায় না ঝুলে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করার মতো ছোট ছোট সিদ্ধান্তই আমাদের নিরাপদ রাখতে পারে। পাশাপাশি অন্যদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে হবে। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, যানবাহনের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা জরুরি। নিজেরা সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি। সড়কের নিরাপত্তা শুরু হোক আমাদের থেকেই।
শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা জরুরি
ক্লিনটন চন্দ্র রায়
একজন মোটরসাইকেল চালক হিসেবে রাতে চলাচলের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের হেডলাইটের তীব্র আলোর কারণে। এতে সামনের রাস্তা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। অনেক সময় ভারী যানবাহন পাশাপাশি চলাচলের কারণে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না। আবার অন্য চালকের হঠাৎ লেন পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি যানবাহনে তীব্র আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বা অপরিচিত যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে এর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। দায়িত্বশীল আচরণই দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ