কুমিল্লায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া নবজাতক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের মা, জেঠা ও নার্সসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন।

গ্রেপ্তাররা হলেন অভিযুক্ত আবির হোসেনের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালের নার্স স্বপ্না বেগম এবং নবজাতককে কিনে নেওয়ার অভিযোগে কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রিপন মিয়া।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেন কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন ওরফে লাকির ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের বাড়ির এক তরুণের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই তরুণী। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

অভিযোগ রয়েছে, সন্তান জন্মের পর আবির ও তার পরিবারের সহযোগিতায় নবজাতকটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিপন মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রবিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে আবির হোসেন, তার মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির ও সালিশদার মোস্তফা মোল্লাকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে তরুণী অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার মা ও নানি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকাকালে আবির তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন।

পরে একই আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানালে তারা ও সালিশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নানা টালবাহানা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সন্তানের পিতৃত্ব আড়াল করতে আবির, তার মা, সালিশদার, হাসপাতালের কর্মী ও পরিচিত ব্যক্তিরা নবজাতকটিকে পাচারের উদ্দেশে লুকিয়ে রাখেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে তার হেফাজতে দেওয়া হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফ হোছাইন জানান, নবজাতক বিক্রির ঘটনায় মানবপাচার আইনে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে আবিরকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। এ নিয়ে মোট দুটি মামলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আবিরসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত