নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। তিনি উপজেলার চাঁচকৈড় এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন শাকিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নূর একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার হাসপাতালে শাকিলের মৃত্যু হয়।
শাকিলের মৃত্যুর পর হামলার ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজতে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
তবে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।
একটি গুলির শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া সেই রাতের হামলা ১২ দিন পর পরিণত হয়েছে হত্যাকাণ্ডে। এখন তদন্তের কেন্দ্রে প্রশ্ন একটাই—কারা, কেন এবং কী পরিকল্পনায় শাকিলকে হত্যা করল। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার জিজ্ঞাসাবাদের পরিধি পৌঁছেছে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য পর্যন্ত।