ইথিওপিয়ায় দুই পৃথক হামলায় নিহত অন্তত ৬০

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৬০ জন অর্থোডক্স খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন। গত ২০ ও ২৪ অক্টোবরের এসব হামলায় আরও ২০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ২০টি বাড়ি। দেশটির গির্জা কর্তৃপক্ষ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের পবিত্র ধর্মীয় পরিষদ (হোলি সিনড) এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডগুলোকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক নিষ্ঠুরতা এবং আমাদের নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভোগ'  বলে বর্ণনা করেছে।

চার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর মের্তি জেলার আঙ্গাদা কেবেলের গোরা সিলিঙ্গো এলাকায় ১৪ জনকে হত্যা করা হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর শিরকা জেলার তেরেতা, চোলে ও বিরবো গ্রামে পৃথক হামলায় আরও ৪৬ জন নিহত হন। দুটি জেলাই ইথিওপিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় ওরোমিয়া অঞ্চলের আরসি জোনে অবস্থিত।

হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ধর্মীয় পরিষদ বলেছে, এসব হামলা জীবনের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে ঐতিহ্য ইথিওপিয়ায় রয়েছে, হামলাগুলো তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

চার্চ কর্তৃপক্ষ সরকারকে প্রকাশ্যে এসব হামলার নিন্দা জানানো, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওরোমিয়া আঞ্চলিক সরকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় এক কর্মকর্তা হামলার জন্য একটি নবগঠিত বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন। ওই জোটে ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করেছে ওএলএ।

ইথিওপিয়ার বৃহত্তম আঞ্চলিক রাজ্য ওরোমিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। সেখানে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত