দীর্ঘ ৮ বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতার টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে। অনলাইনে টিকিট বিক্রি করবে অনলাইন ইভেন্ট টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘টিকিফাই’। টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ১ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে করপোরেট বক্সের টিকিট কিনতে। তবে এক টিকিটেই দেখা যাবে দিনের দুটি ম্যাচ।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কম্পিটিশন কমিটির সঙ্গে গতকাল বাফুফে ভবনে সাফের কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভায় টিকিটের দাম, বিক্রির সময় ও পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচটি শ্রেণিতে। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য ১ হাজার টাকা, ক্লাব হাউজের ৪ হাজার, ভিআইপি গ্যালারির ৭ হাজার, রেড বক্সের ৮ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিট ১০ হাজার টাকা। প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ হবে। একটি ডে পাস কিনলেই সেদিনের দুটি ম্যাচ দেখা যাবে। ফাইনালের টিকিটের দাম পরিবর্তন হতে পারে।
টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পাওয়া টিকিফাইকে নিয়ে এর আগে বিতর্ক হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক দর্শক সাইটে ঢুকতে পারেননি। কেউ কেউ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি। আবার টাকা পরিশোধের পরও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে। পরিস্থিতির জন্য বাফুফে ও টিকিফাই সাইবার হামলার কথা বলেছিল। তবে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা থামেনি। এবার সাফের টিকিট বিক্রিতে সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
টিকিটের দাম নিয়ে দর্শকদের উদ্বেগের বিষয়ে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, ‘একটি টিকিট দিয়ে দিনে দুটি ম্যাচ দেখা যাবে। তার ভাষায়, ‘দুটি ম্যাচের জন্য ১ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৫০০ টাকা।’ বিদেশি সমর্থকদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তা দিতেও কাজ করছে সাফ। কাট্টেল বলেন, ‘বিদেশি সমর্থকদের ভিসা পেতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনপত্র দেওয়া হচ্ছে।’ গ্যালারি পূর্ণ থাকবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। টিকিটের মূল্য নির্ধারণে বাফুফের ভূমিকা সীমিত বলে উল্লেখ করেন গোলাম গাউস। তিনি বলেন, ‘এটি সমর্থকদের জন্য কিছুটা চাপের হবে। তবে টিকিটের বিষয়টি মূলত সাফের ওপর নির্ভর করছে। কারণ এবার তারাই প্রতিযোগিতাটি নিয়ন্ত্রণ করছে।’ এ ক্ষেত্রে বাফুফে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ছয়টি দলের অনুশীলনের জন্যও কয়েকটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো পুলিশ গ্রাউন্ড, বুয়েট গ্রাউন্ড, ৩০০ ফিট এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গ্রাউন্ড এবং কিংস অ্যারেনার বাইরের মাঠ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত মূল দল পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নে কাট্টেল বলেন, ‘ভারত আসবে। এটি যেহেতু টায়ার-ওয়ান প্রতিযোগিতা, তাই তারা যে দলই পাঠাক, আমাদের সেটিকে তাদের প্রথম দল হিসেবেই ধরে নিতে হবে।’
৪ নভেম্বর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফের এক কর্মকর্তা। একই কর্মকর্তা জানান, ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।