আসাবুদ্দীন, ৩০ বছর বয়সী টকবকে এক তরুণ। এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজে ঝরিয়েছেন ঘাম। তার ঘাম ঝরানো উপার্জনেই পুরো পরিবারের অন্নসংস্থান হতো। কিন্তু ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের একটি ঘটনা সব ওলটপালট করে দেয়। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের চার তলায় কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় তার কোমরের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়, পঙ্গু হয়ে যায় দুটি পা এবং একটি হাত।
এরপর পঙ্গু হাসপাতালে শুরু হয় দীর্ঘ লড়াই। একে একে কেটে যায় দেড়টি বছর। মেরুদণ্ডে জটিল অপারেশন হলেও রক্ষা হয়নি। সারাদিন শয্যাশায়ী থাকায় চিকিৎসার এক পর্যায়ে তার শরীরে পচনও ধরেছিল। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। সামান্য ভিটেমাটি আর সহায় সম্বল বলতে যা ছিল, তার সবই বিক্রি করে চিকিৎসা চালিয়েছে পরিবারটি। বর্তমানে কোমরের নিচ থেকে সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে শরীরের সেই অংশ পুরোপুরি অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে।
সমবয়সী তরুণেরা যখন সচল পায়ে মাঠঘাট দাপিয়ে বেড়ায়, জীবনের নানা রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তোলে, ত্রিশ বছর বয়সী আসাবুদ্দীন তখন হুইলচেয়ারে বসে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন কেবল আকাশের দিকে। নিয়তির এমন নিষ্ঠুর পরিহাসে আজ তারও সুস্থ-স্বাভাবিক একটি জীবন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সব গতি, আর অন্ধকার নামিয়ে এনেছে একটি অসহায় পরিবারে।
আসাবুদ্দীনের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণদেওড়া গ্রামে। দিনমজুর মোহাম্মদ আলীর ছেলে আসাবুদ্দীন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুর্ঘটনার পর থেকে আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ। একদিকে মাথার ওপর ঋণের বোঝা, অন্যদিকে নিত্যদিনের ওষুধ ও সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। অর্থাভাবে গত সাত বছর ধরে কার্যত বিনা চিকিৎসায় দিন কাটছে তার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা বা দেশের বাইরে নিয়ে থেরাপি দিতে পারলে আসাবুদ্দীন আবারও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন আরও অন্তত ১০ লাখ টাকা, যা এই দিনমজুর পরিবারের পক্ষে আকাশসম এক অসম্ভব ব্যাপার।
সরেজমিনে আসাবুদ্দীনের বাড়িতে গেলে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। আবেগাপ্লুত হয়ে তারা জানান, তিল তিল করে জমানো সব শেষ করে আজ তারা নিঃস্ব। চোখের সামনে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে তাদের বুকের ধন।
‘বিপদ যে কোনো মুহূর্তে আমার বা আপনারও হতে পারে। তাই আর চুপ করে না থেকে, চলুন এগিয়ে যাই মানবতার দূত হয়ে।’
সমাজের বিত্তবান, সহানুভূতিশীল ও প্রবাসীদের কাছে আকুল আবেদন-আপনার সামান্য একটু সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ, রক্ষা করতে পারে একটি পুরো পরিবারকে। সহৃদয়বান ব্যক্তির একটু সহযোগিতায় ফিরিয়ে দিতে পারে আসাবুদ্দীনের মুখের হাসি।
চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পলাশ-নরসিংদী শাখা সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ৭০১৭ ৩২৮২ ২১২১০, আসাবুদ্দীন ০১৭১৬-৬৭ ৪১২৬ (বিকাশ), এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।