বগুড়ার পুলিশের পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান। এরআগে গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথুলী নামক স্থানে পুলিশ পরিচয়ে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের সাদিকুল ইসলাম (২০) ও আলমগীর হোসেন (৪৩) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রবিউল ইসলাম (২৬) ও আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বগুড়া শহরের গোলপট্টির শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেযাবী স্বর্ণের বার, যার মোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ নিয়ে বাসে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার উথুলি এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান।
পরে বাপ্পিকে বাস থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন তাঁরা। তাঁর কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে ফেলে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় ডিবির একটি দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জনায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর আলমগীরের কাছ থেকে ২৯ লাখ, সাদিকুলের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আসাদুজ্জামানের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান, পূজা উপলক্ষে অর্ডার বেশি থাকায় ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেযাবী স্বর্ণের বার, যার মোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ জয়পুরহাটে আরেক ব্যবসায়ির কাছে পাঠাচ্ছিলেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কিন্তু রাস্তার মধ্যে তার খালাতো ভাই বাপ্পিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে বাছ থেকে নামিয়ে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত কওে স্বর্ণগুলো লুট করে নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, তিন আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি গভীর ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এই স্বর্ণ কারা ক্রয় করেছে এবং এরসাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।