সরকারের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার সেই নারী উদ্যোক্তার জামিন

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক সাজিদুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান। তিনি জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার ধার্য তারিখ ছিল। দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর)‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ সম্প্রচার করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

লাইভে সাথী আক্তার অভিযোগ করেন, তার দুটি শোরুম এবং আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। এমনকি তার বাসা থেকেও মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। একের পর এক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা জানিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই উদ্যোক্তা।

একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’ তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

পরে রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘সাথী বিউটি পার্লার’ ঘেরাও করে বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পার্লারে ভাঙচুর বা হামলার আশঙ্কায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।

পরদিন সোমবার তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়া বা মতপ্রকাশের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার দ্বারা ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকায় আইনানুগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত