বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহজ করতে বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা যুক্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্যাংকটির ঋণ, পে-লেটারসহ অন্যান্য আর্থিক সেবাও এ অ্যাপে যুক্ত হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকেরা মোবাইল ফোন থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস, এমপাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীরসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প (ডিপিএস) খোলার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের কিস্তিতে এবং বিভিন্ন মেয়াদে এ সঞ্চয় প্রকল্প খোলা যাচ্ছে। শিগগিরই বিভিন্ন অঙ্ক ও মেয়াদের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সেবাও চালু হবে।

এ ছাড়া বিকাশ এজেন্টদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ এবং নির্বাচিত গ্রাহকদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এজেন্টরা তাঁদের এজেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি পণ্য কেনাকাটা, সেবা গ্রহণ ও মোবাইল রিচার্জের জন্য পে-লেটার সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সেবার আওতায় গ্রাহকেরা নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে কেনাকাটা বা রিচার্জ করে সাত দিনের মধ্যে সুদ ছাড়াই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন অথবা সহজ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পাবেন। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতেও দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, প্রযুক্তি আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনের সময় সহজ শর্তে অর্থায়ন পাওয়া এখনো চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই দুই প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা ও বিকাশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিকাশের অগ্রযাত্রা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে এগিয়ে নিয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের সঙ্গে এ অংশীদারত্ব আর্থিক সেবার পরিধি আরও বাড়াবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, মানুষের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেও এটি অবদান রাখবে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বিকাশের দেশব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং এজেন্ট নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এজেন্টদের ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি সঞ্চয় ও পে-লেটারের মতো সেবাও সহজলভ্য হবে।

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, প্রযুক্তি ও উপযুক্ত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আর্থিক সেবার বিভিন্ন বাধা দূর করা সম্ভব। এর ফলে কম অঙ্কের অর্থ দিয়েও গ্রাহকেরা সঞ্চয় করতে পারছেন। নতুন এ উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের জন্য নিয়মসম্মত ও সহজলভ্য আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে।

বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাস্ট ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও ঋণসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস চালুর মাধ্যমে বিকাশের ডিজিটাল সঞ্চয় সেবা শুরু হয়। পরে এ সেবায় যুক্ত হয় ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত