ছাত্রদল নেতার জানাজায় রোষানলে এমপি মিন্টু বহিষ্কার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলাকে ঘিরে একের পর এক নতুন ঘটনা সামনে আসছে। মামলায় গ্রেপ্তার নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে গতকাল বুধবার যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে শাকিলের জানাজায় গিয়ে স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন এমপি আজিজ।

এদিন গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে ডিবিকে দেওয়া হয়েছে।

শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ডিবি। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর যুবদল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে বুধবারের মধ্যেই সেখানে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আব্দুল হান্নান ইতিমধ্যে রাজশাহী চলে গেছেন। মামলাটির তদন্তভার গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার এসআই আমির হোসেন জানান, তদন্তভার পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ তখনো তার হাতে পৌঁছায়নি। গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। হেলমেটধারী মোটরসাইকেল আরোহীরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তাকে ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তাকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার সেখানে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। হামলার পাঁচ দিন পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

জানাজার পর প্রবাসীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা : নিহত শাকিলের জানাজা শেষে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইনের মালিকানাধীন ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি অনার্স কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এদিকে জানাজায় গিয়ে স্থানীয়দেররোষানলে পড়েন এমপি আজিজ। তারা এমপিকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জানাজা শেষে একটি অংশ মিছিল চাঁচকৈড় বাজারে যায়। একপর্যায়ে তারা ‘রাস আরবান স্টাইল’ দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। দোকানের কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে কারা হামলায় অংশ নিয়েছে এবং কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে শাকিল হত্যাকাণ্ডে রাসেলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন সন্দেহ থেকে উত্তেজিত লোকজন দোকানে হামলা চালিয়েছে বলে তাদের ধারণা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা হয়। পরে মরদেহ গুরুদাসপুরে এনে রাতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি বলেন, ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। তার অভিযোগ, মামলার এজাহারে প্রথমে প্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে রাসেলের যোগাযোগ ছিল এবং তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে রাসেলের ভূমিকা থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাসেল হোসাইনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুরুদাসপুর থানার ওসি (পরে প্রত্যাহার করা হয়) আব্দুল হান্নান বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত