বিক্ষোভে সহিংসতার আশঙ্কায় ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ পিএম

ফ্রান্সে আগামী শনিবারের (৩১ অক্টোবর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। হ্যালোইন উৎসবের দিন বিক্ষোভকে ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় এ ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। খবর আনাদোলু এজেন্সি। 

বৃহস্পতিবার তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবরের মতোই এবারও দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর আরোপ করা হবে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফ১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ দিনটিকে 'অস্বাভাবিক' উল্লেখ করে বলেন, সেদিন জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরও বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১টা) বিভিন্ন স্থানে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। এসব আহ্বানের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত সহিংস বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোথাও কোথাও বিপ্লব কিংবা বিদ্রোহের ডাকও দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নুনেজ বলেন, 'এসব জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কেউ সমবেত হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।'

তিনি আরও জানান, ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা (প্রেফে) শহরের কেন্দ্রস্থলে আংশিকভাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করবেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন শহরে প্রবেশের সময় তল্লাশি জোরদার করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, 'কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।' আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া বিক্ষোভগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ১৭ ও ২৪ অক্টোবরের পর আগামী শনিবার ফ্রান্সজুড়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত