ব্যাটিংয়ের দুর্দশায় মিরপুর টেস্টের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম স্বাগতিকদের। তিন দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান, যেখানে মোটে ১০৬ রানের লিড রয়েছে স্বাগতিকদের হাতে। ক্রিজে বাকি কেবল ৪টি উইকেট। স্বাগতিক শিবিরের লক্ষ্য স্কোরবোর্ডে ২০০ রান জমা করা, বিপরীতে ক্যারিবিয়ানদের প্রত্যাশা প্রতিপক্ষকে দেড় শ রানের ভেতরেই থামিয়ে দেওয়া।
শনিবার শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের তৃতীয় দিনটি পুরোপুরি ছিল বোলারদের দখলে; দুই সেশন মিলিয়ে পতন ঘটে মোট ১২ উইকেটের। প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসানের দুর্দান্ত ঘূর্ণিজাদুতে সফরকারীদের ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল গুরুত্বপূর্ণ ২৭ রানের লিড। সেই সুবাদেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধস নামার পরও আপাতত ১০৬ রানে এগিয়ে শান্তর দল।
মাত্র ৫৩ রানে দলের অর্ধেক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার পর বিপর্যয় সামাল দেন জাকের আলি ও নাঈম হাসান। দিন শেষে এই জুটিতে অবিচ্ছিন্নভাবে যোগ হয়েছে ২৬ রান। দুজনেই ব্যক্তিগত ১৮ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনে খেলা শুরু করবেন।
দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাঈম হাসান জানান তাদের দলের পরিকল্পনার কথা—"আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান দিতে পারি। এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি, আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি ইনশাআল্লাহ তাহলে যত বেশি রান দিব ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।"
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ ফ্লয়েড রেইফার জানান, তারা স্বাগতিকদের লিড ১২৫ রানের বেশি বাড়তে দিতে চান না, “ওদের রান এখন ৬ উইকেটে ৭৯। কাল সকালে নেমে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়াই থাকবে আমাদের মূল লক্ষ্য। লক্ষ্যটা যদি ১২৫ রানের মতো হয়, তবে এই উইকেটে তা তাড়া করা আমাদের পক্ষে খুব সম্ভব।”
“তবে এর জন্য অবশ্যই দ্রুত উইকেট নিতে হবে। কালকের প্রথম এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, বিশেষ করে ওদের এই জুটি ভাঙার ক্ষেত্রে। ওই জুটি ভাঙতে পারলেই কাজটা সহজ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, জয়ের জন্য লক্ষ্য যদি ১৭৫ রান পর্যন্তও গড়ায়, তাতেও কোনো সমস্যা দেখছে না ক্যারিবীয়রা। “এমন উইকেটে আমরা ১৫০ কিংবা ১৭৫ রানও তাড়া করতে সক্ষম। ছেলেরা এই পিচে সত্যিই ভালো ব্যাট করছে। দেখাই যাচ্ছে, আমরা স্পিনটা তুলনামূলক ভালো খেলি। স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিং নিয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি।”
“বিশেষ করে স্ট্রাইক রোটেট করা, রক্ষণ এবং রান তোলার উপায়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই কাল যে লক্ষ্যই দাঁড়াক না কেন, তা তাড়া করে জিততে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
আলোকস্বল্পতায় থামলো বাংলাদেশের উইকেটের মিছিল