ফিলিপসের রুদ্ররূপ: ৪৬ বলে সেঞ্চুরি
সাধারণত কিছুটা সময় নিয়ে ইনিংস শুরু করলেও এদিন ইডেন পার্কের ছোট বাউন্ডারি আর প্রথম ব্যাটিংয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজের কৌশল খোলস ছেড়ে বের হন গ্লেন ফিলিপস। প্রারম্ভিক পাওয়ার-প্লে পার হতেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন এই কিউই ব্যাটার।
মাত্র ৩১ বলে ফিফটি করার পরবর্তী ১০ বলে তুলে নেন আরও ৪০ রান! ভারতীয় পেসার নীতিশ কুমার রেড্ডির করা এক ওভারেই পরপর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ রান আদায় করেন তিনি। দীর্ঘ ছয় হাঁকিয়ে যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, বল তখনও আকাশে ভাসছিল—কিন্তু তার আগেই বাতাসে হাত উঁচিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন ফিলিপস। তার ১০৭ রানের ইনিংসটিই নিউজিল্যান্ডকে এই মাঠের ইতিহাসে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান (২৫৯) এনে দেয়।
দলীয় ১১২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের সব হিসাব-নিকাশ গোলমেলে করে দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে ১০টি বাউন্ডারিসহ ৬৫ রানের অপরাজিত ক্যামিও খেলেন তিনি। ফিলিপস ও ব্রেসওয়েলের ৪১ বলের জুটিতে আসে অবিশ্বাস্য ১১৫ রান, যার ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের রান ২৫০ পার হয়।
স্কোরবোর্ডের চাপ ও ভারতের ইনিংসে ধস
২৬০ রানের সুবিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম মানসিক চাপের মুখে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আইয়ার রানের গতি সচল রাখতে গিয়ে শট মিস করে সাজঘরে ফেরেন। শ্রেয়াস আইয়ার (২২) পাওয়ার-প্লে ব্যবহার করতে গিয়ে অ্যাডাম মিলনের বলে বোল্ড হন। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা সর্বোচ্চ ৩৫ রান করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।
ভারতের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে ফেলার পেছনে আসল ভূমিকা পালন করেন পেসার জ্যাকব ডাফি। প্রথম বলেই সঞ্জু স্যামসন চার মারার পরপরই নিজের কৌশল বদলে খাটো দৈর্ঘ্যের (বাউন্সার) বোলিং শুরু করেন ডাফি। আর তাতেই ফাঁদে পড়ে উইকেট দেন স্যামসন।
গতির বৈচিত্র্য ও তীক্ষ্ণ বাউন্সারে ভারতীয় ব্যাটারদের কোনোরূপ সুযোগ না দিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন ডাফি। তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন স্যান্টনার (২/২৪) ও ম্যাট ফিশার (২/৪০)।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
নিউজিল্যান্ড: ২৫৯/৭ (২০ ওভার) (ফিলিপস ১০৭, ব্রেসওয়েল ৬৫; মায়াঙ্ক ৩/৪৮)
ভারত: ১৭২/৯ (২০ ওভার) (তিলক ৩৫, শ্রেয়াস ২২; ডাফি ৪/২৩, স্যান্টনার ২/২৪, ফিশার ২/৪০)
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী।