মৎস্যবন্দরে এত ইলিশ কীভাবে!

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই গভীর রাত থেকে ভোরের মধ্যে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ইলিশবোঝাই অসংখ্য ট্রলারের আগমন স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে ট্রলার ফিরে আসায় নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদী ও সাগরে সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কিছু অসাধু জেলে ও ট্রলার মালিক তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। বিশেষ করে সাগরে অবৈধ ‘ট্রলিং’য়ের মাধ্যমে বড় আকারের মাছ শিকার করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এ পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতের কর্মকা- এবং ভোরে ইলিশ নিয়ে বন্দরে ফেরা ট্রলারগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিন মৎস্যবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ ২২ দিনের নীরবতা ভেঙে আলীপুর-মহিপুরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। একের পর এক মাছবোঝাই ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে এবং আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে ইলিশের ধুম বেচাকেনা। দীর্ঘদিন পর মাছের বড় আমদানি দেখে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ মাছ আসার বিষয়টি রহস্যজনক বলেই মনে করছেন অনেকে।

উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘সেফ দ্য বে অব বেঙ্গল’-এর সেক্রেটারি জেনারেল মো. কাওসার মনির বলেন, ‘আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। সমুদ্রের মাছ আহরণ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, কিছু অসাধু জেলে ও অবৈধ ট্রলিং ব্যবসায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই মধ্যরাতে বিপুল মাছ নিয়ে বন্দরে ট্রলার ফেরার ঘটনাই এর বড় প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতি বছরই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতসহ পুরো সময়ে সাগরে নজরদারি বাড়ানো, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই কোনো ট্রলার মাছ শিকার করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সকালে মাছ ধরে বন্দরে এনে বিক্রি করলে সেটি বৈধ। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত