রাজবাড়ীতে অশ্রুসিক্ত বিদায় নারী নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তীর

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন রাজবাড়ীর মানুষ। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়।

এর আগে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জেলা ছাত্রদল, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, মৈত্রী থিয়েটার গ্রুপ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, রাবেয়া-কাদের স্মৃতি পাঠাগার, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, রাজবাড়ী থিয়েটার ও আবোল-তাবোল শিশু সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

মরদেহ শহরের পান্না চত্বরে অবস্থিত মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজবাড়ী বার অ্যাসোসিয়েশনে নেওয়া হলে আইনজীবীরাও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে মারা যান দেবাহুতি চক্রবর্তী। ২০১৩ সালে তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। পরে ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সহমনা ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো।

শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল-তাবোল’ নামে একটি শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী আইনজীবী ছিলেন।

নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর আগে নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাইফুর রহমান খোকন মাহমুদ বলেন, দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বাতিঘর। তারা তাকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছেন। তার চলে যাওয়া রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বড় ক্ষতি। সারা জীবন তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন, নারীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন এবং ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তায় ক্যানসার সোসাইটি গড়ে তুলেছিলেন। সমাজে তার অনেক অবদান রয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত