নামাজের জন্য সাজসজ্জার গুরুত্ব

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া হয় এবং তার সঙ্গে কথোপকথন হয়। তাই নামাজ আদায়ের সময় শারীরিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পোশাক-পরিচ্ছদেও পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা জরুরি। নামাজে দাড়ানোর সময় একজন মুসলিমের মনে রাখা উচিত, তিনি মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হচ্ছেন। 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ ৩১)

এই আয়াতের মাধ্যমে নামাজের সময় সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্ন পোশাক ও রুচিশীল জীবনযাপন প্রশংসনীয়। ফখরুদ্দিন রাজি (রহ.) লিখেছেন, এই আয়াতে সাজসজ্জা বলতে শরীরের পরিচ্ছন্নতা, দামি পোশাক, সুগন্ধি ও বাহনসহ সব ধরনের নান্দনিক সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে। (মাফাতিহুল গাইব ১৪/৫০)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নামাজের সময় সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, তিনি যখন গভীর রাতে নামাজে দাঁড়াতেন, তখনও দাড়ি আঁচড়ে দামি আতর মেখে জায়নামাজে যেতেন।

তার এক ছাত্র বলেছেন, ‘আমি একবার জুমার দিন ইমাম আবু হানিফাকে একটি জুব্বা ও চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখলাম, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ৪০০ দিরহাম।’ (ইবনে হাজার হাইতামি, আল-খায়রাতুল হিসান ফি মানাকিবি আবি হানিফাতান নুমান ১২)

সেই সময়ের ৪০০ দিরহামের বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার।

সুতরাং নামাজের জন্য এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত, যা পরিষ্কার, শালীন ও পরিপাটি। পোশাকে অহংকার কিংবা লোক দেখানোর মানসিকতা থাকা যাবে না। বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে হবে।

অনেকেই দৈনন্দিন কাজের পোশাকেই নামাজ আদায় করেন। পোশাক পবিত্র ও সতর ঢাকা থাকলে তাতে নামাজ আদায় করা যায়। তবে সামর্থ্য থাকলে নামাজের সময় পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা উত্তম। মসজিদে যাওয়ার সময়ও এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। আর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্য মুসল্লিদের প্রতিও সম্মান দেখানো জরুরি।

মনে রাখতে হবে, নামাজের সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়। বিনয়, একাগ্রতা ও আন্তরিকতা নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সৌন্দর্য। তাই বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টাও করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত