হারে কাঠগড়ায় ব্যাটাররা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ এএম

মিরপুর টেস্টে জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে গতকাল ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচে ফেরার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা, তা শেষ করে দেন ক্যারিবীয় দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলিংয়েও প্রত্যাশিত প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ দল। এই হারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণেও বেশ পিছিয়ে পড়লেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।

ঘরের মাঠে স্পিন-সহায়ক উইকেট বানিয়ে জিততে না পারার দায় ম্যাচ শেষে ব্যাটারদের কাঁধে চাপান অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় স্বাগতিকদের ডুবিয়েছে বলে মনে করেন শান্ত, ‘আমার মনে হয় যে এই ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়েছি। প্রথম ইনিংসে উইকেটটা যেরকম ছিল এবং আমরা যেভাবে দিন শেষ করলাম, ২১৩ রানে শেষ করার পরে ২৭৩। আমার মনে হয় যে ওইখানে আমরা ম্যাচে অনেকটা পিছিয়ে গেছি।’

এদিকে মিরপুর টেস্ট জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টেও একই ফল চান দলটির অধিনায়ক রস্টন চেজ, ‘অবশ্যই যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জেতা দারুণ এক অনুভূতির। আমরা এখানে সিরিজ জিততে এসেছি, তাই এটি আমাদের প্রয়োজনীয় একটি শুরু। আমরা দুটি ম্যাচই জিততে চাই, আর এটি দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচ।’

মিরপুর টেস্টের প্রথম তিন দিনে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৬০ ওভার কম খেলা হয়। গতকাল চতুর্থ দিনেও দুবার খেলা বন্ধ থাকে। তারপরও ম্যাচ শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্বিঘœ রান তাড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগই তৈরি হয়নি। প্রথম ইনিংসে ২৫৮ রান করেও ২৭ রানে পিছিয়ে থেকে পরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ক্যারিবীয়রা। বিপরীতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৪২ রানে অলআউট হয়ে প্রতিপক্ষের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেয়।

চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন জাকের আলী। আগের দিন ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দলের ভরসা হয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই সিøপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের। এরপর নাঈম হাসান একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান হাসান মাহমুদ। তবে ওয়ারিক্যানের আর্ম বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় হাসানকে।

বাংলাদেশের ইনিংসে নাঈমের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দলের বিপর্যয় সামাল দেন তিনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন নাঈম। তার ৫২ রানের সৌজন্যে বাংলাদেশের লিড কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছালেও সেটি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অফ স্পিনার রস্টন ৫ উইকেট নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিক্যান পান ৯ উইকেট।

সফরকারী স্পিনারদের সামনে এমন অসহায়ত্ব নিয়ে আক্ষেপ ঝরে শান্তর কণ্ঠে, ‘সে (ওয়ারিক্যান) যতটুকু না ভালো বল করেছে, তার থেকে আমরা খারাপ ব্যাটিং বেশি করেছি। সত্যি বলতে, তাকে অসম্মান না করে বলছি, আমার মনে হয় আমরা আরেকটু ভালোভাবে সামলাতে পারতাম।’

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ক্যাম্পবেল ও কিং। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিনে কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়। তবে ধারাবাহিকভাবে চাপ ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ভালো বলের সঙ্গে আলগা ডেলিভারি মিশিয়ে ফেলায় ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। সুযোগ বুঝে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তারা।

১৮ ওভার পর প্রথমবার পেস আক্রমণে আসে বাংলাদেশ। শরীফুল ইসলাম দ্বিতীয় ওভারেই ক্যাম্পবেলকে (৪৯) বোল্ড করে ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন। পরে হাসান মাহমুদ ফিরিয়ে দেন তেজনারায়ণ চন্দরপলকে। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে। এরপর ১১৫ বলে অপরাজিত ৮১ রান করে ম্যাচ শেষ করেন কিং। অন্য প্রান্তে কাভেম হজ ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে হতাশ করেছেন তাইজুল। সফরকারী হয়েও ওয়ারিক্যান যেখানে স্বাগতিক ব্যাটারদের চেপে ধরেন, সেখানে দুই ইনিংসেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ম্যাচ দিয়ে তাকে বিচার করতে চান না শান্ত, ‘তাইজুল ভাই বছরের পর বছর অনেক ভালো বল করেন, সবসময়। তবে এই ম্যাচে হয়তো একটু কম ভালো বোলিং করেছেন, আমি বলব। তবে এটা হতে পারে। কারণ এত তাড়াতাড়ি আপনি আমাদের এত ভালো বোলার, এত বছর ধরে পারফর্ম করছেন, তাকে বিচার করা উচিত না। আমি বিশ্বাস করি যে, দ্বিতীয় টেস্টে উনি ভালোভাবে ফিরে আসবেন।’

মিরপুরের এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেল বাংলাদেশের জন্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত