সিনিয়র ও জুনিয়র অ্যাথলেটিকস হলেই ছুটে আসেন ট্র্যাকে। অনুজদের খেলা দেখে নিজের সোনালি অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করেন। আর মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস হলে তো কথাই নেই, নেমে পড়েন ট্র্যাকে। জেতেন স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা ব্রোঞ্জ। ৮০ বছর বয়সেও যেন তারুণ্যে দেদীপ্যমান মুন্সীগঞ্জের সাবেক অ্যাথলেট হাবিবুর রহমান। মাঠে সেরার পাশাপাশি এখন তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ বিচারকও।
’৪৭-এ দেশভাগের সময় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড়ে জন্ম হাবিবুর রহমানের। স্বর্ণগ্রাম হাইস্কুলে পড়ার সময় ১৯৬৫ সালে অ্যাথলেটিকসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) আন্তঃস্কুল পর্যায়ের খেলায় নিজের স্কুলকে চ্যাম্পিয়ন করান। ১৯৬৮ সালে যান ‘পাকিস্তান অলিম্পিকে’ খেলতে। সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিপক্ষে খেলেছেন। লড়েছেন আরসিটি (তিন দেশ নিয়ে) টুর্নামেন্টে। জাতীয় পর্যায়ের খেলা ছেড়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের আগেই। তবে অ্যাথলেটিকস ছাড়তে পারেননি বর্ষীয়ান এই অ্যাথলেট। ২০১০, ২০১২ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স অ্যাথলেটিকসে তিনবার দ্রুততম মানব হয়েছেন। ৮০ বছর বয়সেও দৌড়ে যাচ্ছেন তিনি।
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ভেটেরান্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে লংজাম্পে রৌপ্য ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিন ছেলের জনক হাবিবুর রহমান। তার কথায়, ‘বয়স কোনো বিষয় নয়, খেলতে পারাটাই বড়। যতদিন বেঁচে থাকব, অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে আসব, খেলব, পদক জিতব।’ তবে এবার কোকো জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস মিটে শ্রেষ্ঠ বিচারক হিসেবে মনোনীত হয়েছে বর্ষীয়ান এই অ্যাথলেট। তার হাতে সেরা বিচারকের ক্রেস্ট তুলে দেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল জাবের ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। এ সময় যুগ্ম সম্পাদক মনজুর মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।