পটুয়াখালীর চিত্র

একজন শিক্ষক, একজন পরীক্ষার্থী, সেও ফেল!

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

একজন শিক্ষককে কেন্দ্র করেই চলছে কলেজের কার্যক্রম। শিক্ষার্থীও মাত্র একজন। কিন্তু সেই একমাত্র শিক্ষার্থীও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুরের সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এমন চিত্রে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেন আফরিন আক্তার। তবে ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এর আগেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি এই শিক্ষার্থী। ফলে এবারও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে পাসের সংখ্যা শূন্য।

২০২৩ সালে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু হয় সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের। তবে প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। কলেজটি এখনো এমপিওভুক্তও হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু তালেব জানান, তিনি ছাড়া কলেজে আর কোনো শিক্ষক নেই। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত নেই। প্রতিষ্ঠানটি যারা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের পক্ষ থেকেও বর্তমানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

আবু তালেব বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নতুন। এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এখানে আমি ছাড়া কোনো শিক্ষক নেই। এবার একজন মাত্র পরীক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিয়েছিল, সেও ফেল করেছে। এর আগেও সে পরীক্ষা দিয়েছিল, তখনও পাস করতে পারেনি। শিক্ষা কার্যক্রম একেবারেই নেই বললেই চলে। 

একটি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও নিয়মিত পাঠদান ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, এ ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী জেলার দুটি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া কলেজে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হয়েছেন। একইভাবে সদর উপজেলার সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একমাত্র পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত