বিনিয়োগে নজর, ব্যাংকগুলোতে খুলছে চায়না ডেস্ক

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চীনা ব্যবসায়ীদের বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দিতে চায়না ডেস্ক চালু করছে দেশের ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি ১৪টি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে। কোনো কোনো ব্যাংক চীনে প্রতিনিধি অফিসও খুলেছে। এসব ডেস্কের মাধ্যমে বাণিজ্য অর্থায়ন, প্রকল্পের হিসাব পরিচালনা, ব্যাংক গ্যারান্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মতো সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, চীনা বিনিয়োগকারী, বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে আর্থিক সংযোগ বাড়াতে চায়না ডেস্ক ভূমিকা রাখছে। এসব ডেস্কে চীনা ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তা ও চীনা নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও লেনদেনের সুবিধা রয়েছে। সর্বশেষ ওয়ান ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে। এর আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি, ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এমটিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউসিবি, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক চায়না ডেস্ক চালু করে।

চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। দেশের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে।

তবে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগে মূলত আমদানি হলেও এখন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ফলে তাদের ব্যাংকিং সেবার চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো চায়না ডেস্ক চালু করছে।

ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করতে চলতি বছর চায়না ডেস্ক চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আরও বিনিয়োগকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত