নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীরা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনার এটাই হয়তো ‘শেষ সুযোগ’। তাদের মতে, ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একজন ‘বড় মাপের কৌশলী’।

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান জানিয়ে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। খবর আল-জাজিয়ার।

শনিবারের (৩১ অক্টোবর) এ সমাবেশ থেকে বিরোধী দলগুলোর প্রতি এমন জোট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনার এটাই হয়তো ‘শেষ সুযোগ’। তাদের মতে, ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একজন ‘বড় মাপের কৌশলী’।

প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট আগে থেকেই ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে আসছেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষ এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোর সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শনিবার রামাল্লা থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ বলেন, পরিবর্তনের পক্ষে দেওয়া ভোটের প্রতিফলন দেখতে চান সাধারণ মানুষ। তাদের বিশ্বাস, গাদি আইজেনকটসহ ইহুদি-ইসরায়েলি দলগুলোর নেতাদের জনগণের এ আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এদিকে একই দিনে পাল্টা বিক্ষোভও হয়েছে। নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা সেখানে স্লোগান দিয়ে দাবি করেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার গঠন করা উচিত নয় বলে জানান তারা।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নির্বাচনে তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল পেয়েছে ১৯টি আসন। এতে তাদের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, রা’আম ও তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেশি।

আরব দলগুলোর এই নির্বাচনী সাফল্যের ফলে আইজেনকটের সঙ্গে তাদের জোট হলে পার্লামেন্টে আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব। তবে ইসরায়েলের অনেকের কাছে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলো নির্বাচনে ‘কারচুপি’ করেছে এবং এ কাজে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। তবে কাতার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে অপতথ্য ছড়ানোর প্রচারণা বলে অভিহিত করেছে।

আলজাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ বলেন, ইসরায়েলের ডানপন্থী মহলে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতিকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এমনকি ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। ওই দিন হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা এবং কয়েক শ মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

ওদেহ আরও বলেন, আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় সেগুলো এখন আক্রমণের মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত