মানুষের কথা, কাজ ও সিদ্ধান্তের পেছনে জ্ঞান ও বিবেচনা থাকা জরুরি। না জেনে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা, শোনা কথায় বিশ্বাস করা কিংবা যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এতে ব্যক্তিগত জীবনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, সমাজে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার। ইসলাম মানুষকে যেকোনো বিষয়ে কথা বলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘সেই বিষয়ের পেছনে ছুটো না, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। কান, চোখ ও অন্তর, এগুলোর সকল বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা ইসরা ৩৬)
এই আয়াতে মানুষের জ্ঞান, উপলব্ধি ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষ যা শোনে, দেখে এবং অন্তরে ধারণ করে, সেসব বিষয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই কোনো কথা শোনামাত্র তা বিশ্বাস করা কিংবা যাচাই না করে অন্যের কাছে প্রচার করা উচিত নয়। বিশেষ করে কারও সম্পর্কে অভিযোগ, অপবাদ কিংবা কোনো ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করার আগে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আয়াতের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, সংবাদ ও মতামত মানুষের সামনে আসছে। এর মধ্যে অনেক তথ্যের সত্যতা থাকে না। অথচ অনেকে যাচাই না করেই সেগুলো ছড়িয়ে দেন। এতে মানুষের সম্মানহানি হয়, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো, সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা।
একইভাবে কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে সে বিষয়ে নীরব থাকা এবং জানার চেষ্টা করা উত্তম। অনুমান, আবেগ কিংবা লোকমুখে শোনা কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ মানুষের প্রতিটি কথা, দৃষ্টি ও চিন্তার হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জ্ঞান, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
ইসলামে বিনোদন