জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্যের টেকসই সংরক্ষণ এবং জাতীয় আমিষের চাহিদা পূরণে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং আড়ৎ বা খুচরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে শুরু হয়েছে গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর)।  যা চলবে আগামী ৮ মাস পর্যন্ত।

রবিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আইনি নির্দেশনা আজ ১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। খবর বাসস।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর ইলিশ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত ২২ দিনের সফল ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ এর ফলে নদীতে যে কোটি কোটি নতুন ইলিশের পোনা জন্ম নিয়েছে, সেগুলো এখন উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করছে।

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এই আট মাস মেয়াদে ২৫ সেন্টিমিটার (বা ১০ ইঞ্চি) সাইজের চেয়ে ছোট ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং আড়ৎ বা খুচরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল, মশারি জাল ও সুতা জালের ব্যবহার বন্ধে নদীগুলোতে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রবিধান লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা মোতাবেক কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড রয়েছে। অপরাধের মাত্রাভেদে বিজ্ঞ আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় সাজাই একসঙ্গে দিতে পারেন।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, আশ্বিনের ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি নদীতে ইলিশের শতভাগ ‘জন্ম’ নিশ্চিত করে, আর ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ৮ মাসের জাটকা রক্ষা আইন ইলিশের ‘বেড়ে ওঠা ও পরিপক্বতা’ নিশ্চিত করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত