শাকিল হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে এমপিপুত্র মিন্টু

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্তে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টুর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে ২৭ অক্টোবর মিন্টুকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে ৩০ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের আবেদন করে তদন্ত সংস্থা।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামের আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহীরা তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম থানায় মামলা করেন। টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে শাকিলের মৃত্যু হয়। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

শাকিলের মৃত্যুর রাতেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তাকে যুবদলের সাংগঠনিক পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে শাকিল হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গুরুদাসপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানাজার পর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনার পর নাটোর জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন, বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আবদুল আজিজ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৯ অক্টোবর নিহত শাকিলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

শাকিল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত এমপিপুত্র মিন্টুসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে তদন্তে নতুন কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটিই এখন মামলার পরবর্তী অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত