ব্যালন ডি'অরে রহস্যময় ভোটিং আর সন্দেহসজনক বাজি

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি'অরের ফলাফল ঘিরে বিতর্ক ও রহস্য দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়ামে জমকালো এক আয়োজনে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মুকুট অর্জন করেন। কিন্তু এই বিজয়কে ঘিরে সামনে এসেছে দুটি চাঞ্চল্যকর বিষয়—একটি হলো স্কটল্যান্ডের ভোটিংয়ে এমবাপ্পের অদ্ভুত বাদ পড়ার ঘটনা, এবং অন্যটি ফলাফল ফাঁসের আশঙ্কায় সন্দেহজনক বাজির ওপর পুলিশি তদন্ত।
 
কোন দেশের কোন সাংবাদিক কীভাবে ভোট দিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে স্কটল্যান্ডের সাংবাদিক তার শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের তালিকাতেই রাখেননি। এমবাপ্পেকে এভাবে শীর্ষ ১০ থেকে বাদ দেওয়া মাত্র তিনজন সাংবাদিকের মধ্যে একজন ছিলেন স্কটিশ প্রতিনিধি (বাকি দুজন গ্রিস ও ইউক্রেনের)।

স্কটিশ এই সাংবাদিক তার ব্যালটে হ্যারি কেনকে বিজয়ী হিসেবে বেছে নেন। তার তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন যথাক্রমে লামিনে ইয়ামাল এবং রদ্রি (যারা দুজনেই বিশ্বকাপ জয়ী)। এছাড়া স্পেনের ফাবিয়ান রুইজ চতুর্থ এবং এরলিং হালান্ড, দায়ো উপামেকানো, খিচা কাভারাতস্কায়া, মার্ক কুকুরেয়া, ফেরান তোরেস ও লিওনেল মেসি তার সেরা দশের বাকি স্থানগুলো পূরণ করেন।

সন্দেহজনক বাজি এবং ফরাসি পুলিশের তদন্ত

ভোটের এই বৈচিত্র্যের চেয়েও বড় আলোড়ন তুলেছে ব্যালন ডি'অরের ফলাফল নিয়ে চলা একটি ফরাসি তদন্ত। ফরাসি প্রকাশনা ‘আপসাইড’-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি নির্ভর আমেরিকান প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এ কিছু সন্দেহজনক বাজি ধরা হয়েছিল, যা থেকে প্রায় ১৪৯,০০০ পাউন্ড (£149,000) মুনাফা তুলে নেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, পলিমার্কেটের ১২টি অ্যাকাউন্ট থেকে সোমবারের অনুষ্ঠান শুরুর আগে মোট ২৬৪,০০০ ডলারেরও বেশি অর্থ বাজি হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলোর অনুমান এতটাই নিখুঁত ছিল যে তারা হ্যারি কেনের জয় থেকে শুরু করে এমবাপ্পে (দ্বিতীয়), ইয়ামাল (তৃতীয়), রদ্রি (চতুর্থ) এবং মেসি (পঞ্চম)—এই পুরো শীর্ষ পাঁচের ফিনিশিং অর্ডার হুবহু ধরে ফেলেছিল।

'আপসাইড'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাফায়েল পাউটার্ডের মতে, ১ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে তৈরি করা এই ১২টি অ্যাকাউন্টের কর্মকাণ্ডে দারুণ মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি অ্যাকাউন্ট কেবল ব্যালন ডি'অরের বাজারেই বাজি ধরেছিল এবং ৬টি অ্যাকাউন্ট খোলার ঠিক ১৫ মিনিট পরেই প্রথম বাজি ধরে। একটি লেনদেন ফরাসি প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত ট্রেস করার পর, ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সন্দেহজনক বাজিগুলোতে অর্থায়নকারী ব্যক্তির পরিচয় কিছুটা চিহ্নিত করা গেছে বলে জানা যায়।

ফ্রান্স ফুটবলের কঠোর গোপনীয়তা ও উদ্বেগ

অনুষ্ঠানের আগে বিজয়ীদের নাম কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রেখেছিল ‘ফ্রান্স ফুটবল’। এমনকি খেলোয়াড় ও তাদের ঘনিষ্ঠ দলগুলোকেও (এমবাপ্পে, কেন বা ইয়ামালের টিম) সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। ফ্রান্স ফুটবলের সাবেক সম্পাদক পাস্কেল ফের গত সপ্তাহে বলেছিলেন, "বিজয়ী কে তা আমরা কীভাবে গোপন রাখি? একটি ভালো গোপন বিষয় সেটাই যা খুব কম মানুষের সাথে ভাগ করে নেওয়া হয়।"

তবে অফিসিয়াল ঘোষণার আগেই কীভাবে এই গোপনীয় তথ্য বেটিং অ্যাকাউন্টগুলোতে পৌঁছাল, তা আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ‘আপসাইড’-এর সমস্ত অনুসন্ধানী তথ্য ও আলামত ইতোমধ্যে ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ফরাসি পুলিশকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পুলিশ এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যে এর পেছনে কোনো তথ্য ফাঁস বা বড় ধরনের জালিয়াতি জড়িত ছিল কি না।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত