এআইয়ের কল্যাণে এখন খুব সহজেই ধর্মীয় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা, হাদিসের সূত্র কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে অনেকেই এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে বিস্তারিত উত্তর ও বিভিন্ন তথ্যসূত্র। তবে উত্তর সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হলেই তা নির্ভুল, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।
এআই অনেক সময় কোরআনের আয়াত ও হাদিসের ভুল সূত্র উল্লেখ করে। এমনকি অস্তিত্বহীন সূত্রও তৈরি করতে পারে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি এআই চালিত ইসলামি চ্যাটবটের ৮০টি প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করে এ ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে।
কোনো তথ্য গ্রহণের আগে ইসলাম যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। তাই কোনো তথ্য বা সংবাদের সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা, অনুসন্ধান করা বা স্পষ্টতা নিশ্চিত করা জরুরি। ইসলামে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম মূল ভিত্তি।
সুতরাং ধর্মীয় বিষয়ে এআইকে তথ্য অনুসন্ধান ও প্রাথমিক ধারণা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আয়াত, হাদিস ও ফিকহি বিধানের সূত্র নির্ভরযোগ্য কিতাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও জটিল ধর্মীয় বিষয়ে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রযুক্তি তথ্য পাওয়ার পথ সহজ করতে পারে, কিন্তু সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য যাচাই, চিন্তাভাবনা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প হতে পারে না। এআইয়ের যুগে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চায় যাচাইয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।