দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন প্রবাল সুরক্ষায় এবারও পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেন্টমার্টিনসংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপ অংশ। পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও বিচরণ ঠেকাতে ছেঁড়াদ্বীপের প্রবেশপথে লাল পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি জাল দিয়ে ঘেরাও করে প্রতীকী সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সেন্টমার্টিনের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ছেঁড়াদ্বীপে লাল পতাকা টাঙিয়ে লাল সংকেত জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন। দ্বীপের ভঙ্গুর পরিবেশ, সামুদ্রিক প্রবাল ও অতিসংকটাপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ রক্ষার এই কড়াকড়ির কারণে দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মানুষদের জীবিকা যাতে সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ আশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ রেখে সেন্টমার্টিনে শর্তসাপেক্ষে পর্যটন মৌসুম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুঁইফোঁড় ও ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সি ছেঁড়াদ্বীপে ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে ট্যুর প্যাকেজ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, ‘ছেঁড়াদ্বীপে এখনো কিছু বিরল প্রজাতির জীবিত প্রবাল ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র টিকে রয়েছে। পর্যটকদের অতিরিক্ত আনাগোনা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং কোরাল ও শামুক-ঝিনুক চুরির কারণে এই পরিবেশ চরম হুমকির মুখে। তাই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বীপে প্রবেশ পথ লাল পতাকা ও জাল দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ছেঁড়াদ্বীপে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের স্থানীয় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রহিম উল্লাহ জানান, ‘আমরা সরকারের পরিবেশ রক্ষামূলক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে কিছু অসাদু ও ভুয়া এজেন্সি পর্যটকদের বিভ্রান্ত করছে, যা সামগ্রিক পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমরা সব পর্যটককে অনুরোধ করব, আপনারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এলেও ছেঁড়াদ্বীপের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন এবং কোনো ভুয়া এজেন্সির চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতারিত হবেন না।’
এ ব্যাপারে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন দীর্ঘ বিরতির পর দ্বীপে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় স্থানীয় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের মনে স্বস্তিফিরেছে, কারণ দ্বীপাঞ্চলের সিংহভাগ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তবে দ্বীপের সুরক্ষায় সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমাদের সফল করতে হবে। ছেঁড়াদ্বীপের জীবিত প্রবালগুলো টিকিয়ে রাখা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন।’