নারী ফুটবল ক্যাম্পে বিভক্তি!

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ এএম

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন দুই প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রস্তুতি শিবিরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রধান কোচ পিটার বাটলার ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ায় এবং চট্টগ্রামে সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের খেলোয়াড়দের আলাদা সময়ে অনুশীলন করানোর ফলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

গত শুক্রবার ঢাকায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় একসঙ্গে অনুশীলনের পর সড়কপথে চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (কেইপিজেড) পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। দুই বাসে ৪২ খেলোয়াড় একসঙ্গে চট্টগ্রামে গেলেও তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা ও আরও এক সতীর্থ আলাদাভাবে ক্যাম্পে যোগ দেন। সব মিলিয়ে বর্তমান ক্যাম্পে খেলোয়াড় সংখ্যা ৪৪ জন। আগামী ১ ও ৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য এ বহর থেকেই ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার কথা। তবে প্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রধান কোচের অনুপস্থিতি এবং অনুশীলনের ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। চিকিৎসকরা তার শরীরে টিউমারের আশঙ্কা প্রকাশ করায় তিনি জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে যান। ক্যাম্প শেষ করে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবার ও স্ত্রীর অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রওনা হন। তবে তিনি কবে নাগাদ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কোচ আবুল হোসেন।

এদিকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই দলের অনুশীলনে বিভাজন দেখা গেছে। সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের খেলোয়াড়দের নামানো হচ্ছে আলাদা শিফটে। সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সিনিয়র ফুটবলাররা অনুশীলন করলেও মাঠ ছাড়ার পর মাঠে নামছেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ১৭ তরুণ ফুটবলার। ঢাকায় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে ঘাম ঝরানোর পর হঠাৎ এই বিভাজনের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একই ক্যাম্প থেকে যৌথভাবে চূড়ান্ত দল গঠনের কথা থাকলেও, এমন পৃথক অনুশীলনে সবার সামর্থ্য ও পারফরম্যান্স সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধান কোচ না থাকায় স্থানীয় কোচদের ওপর সব দায়িত্ব বর্তেছে। তবে দুই শিফটে অনুশীলন করানোর সুনির্দিষ্ট কারণ তার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রধান কোচ বাইরে থাকায় স্থানীয় কোচেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে কেন দুই শিফটে অনুশীলন হচ্ছে, সে বিষয়ে আমার কোনো উত্তর নেই; যারা মাঠের অনুশীলন পরিচালনা করছেন, তারাই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।’

সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এ দুই ম্যাচের আগে কোচের আকস্মিক অনুপস্থিতি এবং অনুশীলন ব্যবস্থায় এ বিশৃঙ্খলা দলের প্রস্তুতিতে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত