দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলো এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অগ্রাধিকার শেয়ার (প্রেফারেন্স শেয়ার) ইস্যু করতে পারবে। এ ধরনের শেয়ারের লভ্যাংশের হার অভিহিত মূল্যের ৫ শতাংশের বেশি না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হবে না।
তবে ৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণ করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে হবে।
মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি)। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু, নগদায়ন, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর এবং এর বিপরীতে লভ্যাংশ ও অর্থ বিদেশে পাঠানোর নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেকোনো আবাসিক কোম্পানি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রযোজ্য বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির শর্ত পরিপালন করতে হবে। অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।
লভ্যাংশের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অগ্রাধিকার শেয়ারের অভিহিত মূল্যের ৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন লাগবে না। তবে এর বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণ করা হলে কিংবা অংশগ্রহণমূলক বা পরিবর্তনশীল হারে লভ্যাংশ দেওয়ার শর্ত থাকলে অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত লভ্যাংশের হারের যৌক্তিকতাসহ মনোনীত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে আবেদন করতে হবে।
শেয়ার ইস্যুর ১৪ দিনের মধ্যে এডি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে। এ সময় কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি) অনুমোদিত শেয়ার বরাদ্দের রিটার্ন বা ফরম-১৫, নির্ধারিত ছকে অর্থ নগদায়ন সনদ এবং অনলাইন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের পরিচিতি নম্বর জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিডিউল-এক্সও পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার শেয়ার অভিহিত মূল্যে ইস্যু করতে হবে। ফলে এ ধরনের শেয়ার ইস্যু বা নগদায়নের ক্ষেত্রে কোম্পানির মূল্যায়নের প্রয়োজন হবে না। তবে অগ্রাধিকার শেয়ারের সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকলে রূপান্তরের অনুপাত নির্ধারণের জন্য সাধারণ শেয়ারের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ জারি করা এফইআইডি সার্কুলার-১-এ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
অগ্রাধিকার শেয়ার সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মনোনীত এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগকে জানাতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা-২০১৮-এর প্রথম খণ্ডের নবম অধ্যায়ের ২(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন সার্কুলারের শর্ত মেনে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করা হলে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও শেয়ার নগদায়নের অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান পরিপালন করতে হবে।
এলপিজি আমদানিতে সহায়তা দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসককে অপদস্থের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ব্যাংক