নিরাপত্তার কারণে স্থগিত জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী

উদ্বোধনের কিছুক্ষণ আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে স্থগিত করা হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বিশেষ প্রদর্শনী।

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উদ্বোধনের কিছুক্ষণ আগে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় চার নেতা’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন আয়োজকরা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। সারওয়ার আলী বলেন, উদ্বোধনের দিন বিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণে প্রদর্শনীটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই উদ্বোধনী আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের আগে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কয়েকজন অতিথি জাদুঘরে উপস্থিত হয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে ১২ থেকে ১৫ জন পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠান শুরু না করার নির্দেশ দেন। পরে আয়োজকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, অনুমতি ছাড়া একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখভাল করেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষই অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাদুঘরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ষষ্ঠ তলার ৬ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলার কথা ছিল। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিরা এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সারওয়ার আলী জানান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সাধারণত ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। তবে এবারের প্রদর্শনীতে জাতীয় চার নেতার মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। এটি সাধারণ কোনো জেল হত্যা দিবসের আয়োজন ছিল না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।

শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণ জানতে চাইলে সারওয়ার আলী বলেন, এ বিষয়ে তারা কোনো প্রশ্ন তুলতে চাননি। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরামর্শ দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রদর্শনী আয়োজনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে সারওয়ার আলী বলেন, এ ধরনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণত আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হয় না। প্রদর্শনীর বিষয়টি তিন-চার দিন আগেই প্রচার করা হয়েছিল। তাই শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত