ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর পেছনে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির রিমান্ড শুনানিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে এমন সন্দেহের কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আটটি কারণ দেখিয়ে দীপকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা একটি রেস্তোরাঁয় যান। সেখান থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় এবং পরে তুরাগ নদের পাড়ে যান। একপর্যায়ে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর একজন নদীতে পড়ে যান এবং দীপ বাসায় ফিরে যান বলে অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তার কী হয়েছে, তা নিয়ে দীপের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়নি। বিষয়টি তিনি কাউকেও জানাননি। পরে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে দীপ কিছু তথ্য দিলেও তা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে দাবি করে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
শুনানিতে শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, এনায়েত করিম চৌধুরী ও ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দীপের বক্তব্যের কিছু মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পিতভাবে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য ও সন্দেহ, আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য নয়।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দীপের প্রথম দফা রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেছিলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।
দীপ এর আগে জানিয়েছিলেন, একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন দীপ। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে, এ মামলায় তাহসিফের বান্ধবী হিসেবে পরিচিত জেরিকা তাসনিম দিশাকে গত রবিবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।