সারাদেশে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৯৯২ সালে গঠিত চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের আগের সব ঋণের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারাদেশে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। লিজ নেওয়া জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে পারবে।
তিনি চিংড়ি চাষের উপযোগী এবং ইতোমধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে এমন খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়ার পাশাপাশি চিংড়ি মহাল কমিটিগুলো পুনর্গঠনের তাগিদ দেন। এ ছাড়া ১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকোরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের কারণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে উপকূলীয় বন নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, চিংড়ি খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা সংশোধন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ রক্ষা করাও।
সভা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হচ্ছে।
সভায় কক্সবাজারের চিংড়ি মহালসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—যেসব জমিতে বন নেই, সেগুলো বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য উন্মুক্ত করা। বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) কর্তৃক হাইকোর্টে দায়ের করা ৭৪৮৩/২০১২ নম্বর রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং উদ্যোক্তাদের আগের ঋণের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় অন্যদের মধ্যে ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।