যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেবে, তা নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। খবর: বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন মূলত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। জনমত জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি। দুই দলের আসন সমান ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দেওয়া সিদ্ধান্তমূলক ভোটে তার দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত তিনটি এবং সিনেটে চারটি আসন নিজেদের দিকে আনতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় কেনটাকি ও ইন্ডিয়ানার কয়েকটি এলাকায় প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তখন ৪ নভেম্বর ভোর ৪টা। তবে এসব এলাকার ফল দিয়ে সামগ্রিক নির্বাচনের চিত্র বোঝা কঠিন। কারণ, ওই এলাকাগুলোর অনেকগুলোই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি।
ওহাইওতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় ৪ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৫টা। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেড ও ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে।
মেইনে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় ৪ নভেম্বর সকাল ৬টা। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। একই সময়ে মিশিগান, কানসাস ও টেক্সাসের বেশির ভাগ এলাকায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় আইওয়া এবং মিশিগান, কানসাস ও টেক্সাসের বাকি কিছু এলাকায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় তখন ৪ নভেম্বর সকাল ৭টা। এরপর নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে।
সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৪ নভেম্বর রাত ১টায় আলাস্কায় ভোট শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় ৪ নভেম্বর বেল ১১টা। সেখানে ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা ও রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্য বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। কোনো প্রার্থী বা দল এমন ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে যে বাকি ভোট গণনা করেও ফল পাল্টানোর সম্ভাবনা নেই, তখনই সাধারণত এ ধরনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে ফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।
ভোট গণনা হয় যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজেদের নির্বাচন পরিচালনা করে এবং ভোট গণনার জন্য আলাদা নিয়ম অনুসরণ করে। ফ্লোরিডার মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের আগেই ডাকযোগে আসা ও আগাম ভোটের ব্যালট প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে ৩ নভেম্বর নির্বাচনের দিন থেকে ভোট গণনার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রতিটি ভোট যাচাই, প্রক্রিয়াকরণ ও গণনা করেন। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্যানভাসিং। বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের পর নিরীক্ষা করা হয়। এতে হাতে গণনা করা ব্যালটের সঙ্গে যন্ত্রে গণনা করা ফল মিলিয়ে দেখা হয়। তবে নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। সাধারণত পুনর্গণনার প্রয়োজন হলে পূর্ণাঙ্গ হাতে গণনা করা হয়।
কোন কর্মকর্তা ভোট গণনায় অংশ নিতে পারবেন, কোন ক্রমে ব্যালট প্রক্রিয়াকরণ হবে এবং জনসাধারণ কীভাবে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, সেসব বিষয়ও অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মে নির্ধারিত থাকে। কোনো কোনো জায়গায় রাজনৈতিক দলের পর্যবেক্ষকেরা গণনা দেখতে পারেন এবং আনুষ্ঠানিক আপত্তিও জানাতে পারেন।
ফল চ্যালেঞ্জ হলে কী হবে
সব ভোট গণনা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্গণনা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়। প্রথমে স্থানীয় ও কাউন্টি পর্যায়ে এবং পরে অঙ্গরাজ্যজুড়ে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর গভর্নর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে বিজয়ীদের ফলের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করে কংগ্রেসে পাঠান।
কোনো আসনে ব্যবধান খুব কম হলে প্রার্থীরা পুনর্গণনার আবেদন করতে পারেন। কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটের ব্যবধান নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা শুরু হয়। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেও প্রার্থীরা আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসেরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পরাজিত প্রার্থীরা নিজ নিজ কক্ষের নিয়ম অনুযায়ী ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তাত্ত্বিকভাবে উভয় কক্ষই কোনো বিজয়ীকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে কিংবা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।
নতুন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্ধারিত রয়েছে ৩ জানুয়ারি। বিদায়ী সদস্যরা ওই দিন দায়িত্ব ছাড়বেন। তবে দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়ায় নতুন সদস্যরা একই দিনে দায়িত্ব নিতে পারেন, যদি না কংগ্রেস আইন করে অন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করে।
ট্রাম্পের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের পর এই নির্বাচন ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মাত্র দুটি নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন হারানো এড়াতে পেরেছে। এবারও সেই ঐতিহাসিক প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে তার সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগও নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখছে।
অক্টোবরের শুরু থেকে ট্রাম্প দুই ডজনের বেশি নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। এসব সমাবেশের বেশির ভাগই হয়েছে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর জয়ী হওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোতে। রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের কট্টরপন্থী বলে আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে পারবেন। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করা, আইন পাসের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়ন আটকে দিতে পারবেন তাঁরা।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান, আলাস্কা, টেক্সাস, কানসাস, মেইন, আইওয়া, নেব্রাস্কা, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন। তবে তাঁর দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচারশিবিরের বিরুদ্ধে একই নামের আরেকজন প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পেলটোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে মামলা করলেও আদালত সেই উদ্যোগ খারিজ করেছেন।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়ছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক রিপাবলিকানদের সমর্থনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ষষ্ঠ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।
আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত
নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত আগাম ভোটের তথ্য ডেমোক্র্যাটদের জন্য আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেছে। সিএনএন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্টের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবার আগাম ভোটের সংখ্যা বেড়েছে। ২৮টি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য রয়েছে।
২৫টি অঙ্গরাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগাম ভোটে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ভোটারের অংশ ১৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের এই ব্যবধান তিন শতাংশ পয়েন্টেরও বেশি বেড়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানরা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৩ হাজার বেশি আগাম ভোট দিলেও ডেমোক্র্যাটদের ভোট বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার। দলীয় পরিচয়হীন ভোটারদের আগাম ভোট বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার।
কানসাসেও ডেমোক্র্যাটদের আগাম ভোট দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। রিপাবলিকানদের ভোট বেড়েছে ৪০ শতাংশের কিছু কম। দলীয় পরিচয়হীন ভোটারদের ভোট বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।
আগাম ভোটারদের মধ্যে জাতিগত বৈচিত্র্যও বেড়েছে। ৪০টি অঙ্গরাজ্যের তুলনামূলক তথ্যে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ভোটারের অংশ ২০২২ সালের একই সময়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ থেকে কমে এবার ৭১ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো ভোটারের অংশ প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট করে বেড়েছে। টেক্সাসে আগাম ভোটে লাতিনো ভোটারের অংশ প্রায় পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে লাতিনো ভোটারের উপস্থিতিও প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবার ডাকযোগে ভোটের তুলনায় সরাসরি আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ২২ শতাংশ ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন। এবার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট কমলেও সরাসরি আগাম ভোট বেড়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় সরাসরি আগাম ভোট ২০২২ সালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে ডাকযোগে ভোট কমেছে ৩৫ শতাংশ।
তবে আগাম ভোটের তথ্য দিয়ে কোন দল কত ভোট পেয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ, এসব তথ্য ভোটারের নিবন্ধিত দলীয় পরিচয় তুলে ধরে, ব্যালটে কাকে ভোট দিয়েছেন তা নয়। তা ছাড়া আগাম ভোটারদের বড় অংশ সাধারণত বেশি বয়সী এবং নির্বাচনের দিন ভোট দিতে আসা ভোটারদের তুলনায় তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকানদের উপস্থিতি কম থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা তাদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও এই সুবিধা নিশ্চিত বিজয়ের নিশ্চয়তা নয়। কারণ, রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশ ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোট দিতে পছন্দ করেন। ফলে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে নির্বাচনের দিনের ভোটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোট হচ্ছে। এসব নির্বাচনের ফলও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।