আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের প্রথম শিরোপা জিতে নিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। মঙ্গলবার এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় একতরফা ফাইনালে এআইইউবিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে একচেটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে বলের দখল রাখে ড্যাফোডিল। মুর্হুমুহু আক্রমণে এলোমেলো হয়ে পড়ে এআইইউবির রক্ষণভাগ। এদিকে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থেকেছে এআইইউবি। ২০ মিনিটে ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এতে উভয় দলের দুই খেলোয়াড় দেখেন সরাসরি লাল কার্ড। দু’দলই ১০ জনে পরিণত হলেও ড্যাফোডিলের আক্রমণের ধার কমেনি। ৩১ মিনিটে ম্যাচের গোল খরা কাটিয়ে ড্যাফোডিলকে উল্লাসে ভাসান ইউনুসা। ১৫ নম্বর সালিসু দাউদার দুর্দান্তভাবে বাড়ানো বল ডি-বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটি ঘেঁষা শটে লক্ষ্যভেদ করেন দলকে ১-০ গোলে লিড এনে দেন।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া ড্যাফোডিল দ্বিতীয় অর্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ৬৮ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে উপহার আসে ম্যাচের সবচেয়ে নজরকাড়া গোলটি। মাঝমাঠের কাছে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় বেশ কিছু দূর ড্রিবলিং করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন জুয়েল। এরপর চতুরতার সঙ্গে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান তিনি (২-০)।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে এআইইউবি ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও ড্যাফোডিলের জমাট রক্ষণে সুবিধা করতে পারেনি। উল্টো নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে এআইইউবির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেলিম। প্রথমার্ধের গোলদাতা ইউনুসার মাপা পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। আর তাতেই উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। দাপুটে জয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে উল্লাসে মাতোয়ারা হয় চ্যাম্পিয়ন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান; বিশিষ্ট ফুটবল কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও ফুটবল এশিয়ার প্যানেল লেখক মো. ইকরামুজ্জামান; সাবেক জাতীয় ফুটবলার রুম্মন বিন ওয়ালিদ সাব্বির; বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার সাঈদ হাসান কানন এবং বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ ও মো. জাকির হোসেন।
পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এবিজির ভূয়সী প্রশংসা করে এসময় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, 'এমন একটি আয়োজনকে শুধু পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য নয়, এর পেছনের ভাবনার জন্যও তারা প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশের জন্য আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আজকের পরিবেশ প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও খ্যাতিমান খেলোয়াড় রয়েছেন। পাশাপাশি দর্শকরাও মাঠে এসে তাদের দলকে দেখতে চান। এমন একটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল ও খেলোয়াড়ের জন্য আমার শুভকামনা।’