এইচএসসি সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষা

দ্বিতীয় দফায় পাসের সুযোগ পাচ্ছে ৫ লাখ পরীক্ষার্থী

ফরম পূরণ আগামীকাল থেকে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষায় শুরু হচ্ছে সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষা। দেশের ২২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও এবার কম। এ অবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা। এ জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ফরম পূরণের কাজ। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ জন এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আগামীকাল তথা ৫ নভেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে ৭ তারিখ পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারলেও তা হয়তো ১০ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। তিনি বলেন, এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, শুধু তারাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এটি কি পুরোদমে বিকল্প একটি পাবলিক পরীক্ষা এই প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ৩১টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ, ফল তৈরি ও ফল প্রকাশ পুরো আরেকটি পাবলিক পরীক্ষা। আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যাতে একটি বছর ঝরে না যায়, সে জন্য এই সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষার আয়োজন করেছি। এরা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার মূল পরীক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রতি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র : যেহেতু সারা দেশে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তাই পরীক্ষার কেন্দ্র কীভাবে নির্বাচন করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তারপরও পরীক্ষায় ফরম পূরণের পর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হবে। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হলে আমরা সকাল-বিকাল পরীক্ষা নিয়ে ১৩ দিনে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

এক ও দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ফেল ঢাকা বোর্ডে : এদিকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ জন ফেল করেছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৫ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৮১ হাজার ৬৫৯, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৯ হাজার ২৯৫, যশোর বোর্ডে ৬৭ হাজার ৪৬৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪১ হাজার ২৪৮, বরিশাল বোর্ডে ২৫ হাজার ৭৫৪, সিলেট বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯৩৮, দিনাজপুর বোর্ডে ৬২ হাজার ৪১৯ ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯৫৮ জন ফেল করেছে।

বিষয়ভিত্তিক ফেলে শীর্ষে ইংরেজি : ৩১টি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডেই রয়েছে ৪৮ হাজার ৮১৭ জন, এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ৪২ হাজার ৮৩৫, যশোর বোর্ডে ৩৮ হাজার ৮৩০ জন। বিষয়ভিত্তিক ফেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেল করেছে আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৪ জন। এই ফেল করাদের মধ্যে শীর্ষে ঢাকা বোর্ডের ৩৬ হাজার ৯০১ জন ও রাজশাহী বোর্ডে ২৩ হাজার ১২৫ জন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে পরীক্ষায় যারা ফেল করেছে, তাদের অনেকে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদনও করছে। তারাও এবারের সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় ফরম পূরণের সুযোগ পাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত