মিরপুর টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য ব্যাটারদের শুধু অনুশীলনে নয়, মাঠের লড়াইয়েও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে বলে মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি, ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা, স্পিনারদের পারফরম্যান্স ও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি দেখছেন না সিমন্স। তার মতে, সমস্যা প্রস্তুতিতে নয়, বরং ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির যথাযথ প্রয়োগে। এনিয়ে সিমন্স বলেন, ‘আমি মনে করি না আগের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা কঠিন। ছেলেরা আগের মতোই একই তীব্রতা ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। কিন্তু ম্যাচে সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছে না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, মাঠের লড়াইয়েও যেন সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি। শুধু অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না, সেটির প্রতিফলন ম্যাচেও থাকতে হবে।’
সিলেটের উইকেট নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ। তার চোখে, পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের টেস্ট সিরিজের উইকেটের সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। ব্যাটারদের জন্য ভালো একটি উইকেটই প্রত্যাশা করছেন তিনি। বাংলাদেশ কোচের দাবি, ‘উইকেটটি ভালো দেখাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সময়কার উইকেটের কথা মনে পড়ছে। এটিও অনেকটা তেমনই মনে হচ্ছে। আমার মনে হয়, এখানে ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে।’
প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের প্রশংসা করলেও নিজেদের ব্যাটিংয়ের ঘাটতি স্বীকার করেন সিমন্স, ‘আমরা যতটা ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ততটা করতে পারিনি। তারা ভালো বোলিং করেছে, তবে এটাই টেস্ট ক্রিকেট। আমাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে হবে। কীভাবে তাদের মোকাবিলা করব, কীভাবে রান করব এবং কীভাবে নিজেদের রক্ষা করব, সবকিছুতেই উন্নতি জরুরি।’
বাংলাদেশের স্পিনারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তাদের ওপর আস্থা হারাননি প্রধান কোচ। তার মতে, স্পিন বাংলাদেশের শক্তির অন্যতম জায়গা এবং সেই শক্তির ওপর এখনো যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে দলের।
এদিকে মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিমন্স। সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফেরানো।
ব্রাজিলিয়ানের জোড়ায় স্বস্তির জয় ম্যানইউয়ের