খাদ্য অপচয় রোধে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর 

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, শিল্প ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, ফলাফল তত কার্যকর হবে। 

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

খাদ্য অপচয় রোধে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি  বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, শিল্প ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, ফলাফল তত কার্যকর হবে। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার হোটেল শেরাটনে ‘সেইভ ফুড, সিকিউর বাংলাদেশ্‌স ফুড ফিউচার: ন্যাশনাল ডায়ালগ অন লস অ্যান্ড ওয়েস্ট’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)  বাংলাদেশ কার্যালয় যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। 

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সংলাপ শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যার সুফল মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হবে। খাদ্য অপচয় রোধ মানে শুধু খাদ্য সাশ্রয় নয়; বরং কৃষকের শ্রমের মর্যাদা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে উৎপাদিত খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাদ্য অপচয় রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, উৎপাদক ও ভোক্তাদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মি. জিয়াওকুন শি খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের মহাপরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান।

কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম, অধ্যাপক নওশাদ আলম ও ড. এম. খালেকুজ্জামান। তাঁরা খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি হ্রাসের চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, এফএও-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ১৩.৩ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়। অন্যদিকে ইউএনইপি-এর হিসাবে, ২০২২ সালে পরিবার, খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে। খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি কমানো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১২.৩ অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা ।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত