পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এরপরও থামছে না শ্রমিক অসন্তোষ। এই অস্থিরতার পেছনে উঠে এসেছে অর্থায়নের একাধিক নেটওয়ার্ক। শ্রমিক অসন্তোষসহ শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা তৈরির পেছনে ১৩৭ জন সম্ভাব্য অর্থদাতার নাম রয়েছে। এর বড় অংশই দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে দেশের ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমন্বয় করছে। অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংও ব্যবহার করেছে তারা।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে রবিবার মিরপুরে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের। এ জন্য শনিবার রাতেই এক থেকে দেড়শ কর্মী-সমর্থককে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে এই কাজের সমন্বয় করছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। সহিংস কর্মকা- চালাতে ঢাকার বাইরে থেকেও নেতাকর্মীদের আনা হচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে ‘যারা উসকানি ও ইন্ধন দিচ্ছে’ তাদের তথ্য পুলিশের কাছে আছে। যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, গার্মেন্টসে হঠাৎ শুরু হওয়া শ্রমিক অসন্তোষ শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটছে না। এর পেছনে রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন। শিল্পাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে বারবার বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং নির্দিষ্ট কিছু মুখকে উসকানিমূলক ভূমিকায় দেখা যায়। নাশকতার জন্য তাদেরকে অর্থের জোগান দেওয়া হয়।
তদন্তে অর্থ যোগানদাতার তথ্য : গার্মেন্ট সেক্টরের নাশকতা নিয়ে পুলিশের একাধিক ইউনিট তদন্ত করে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে। এসব হামলায় অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে ১৩৭ জনের মতো। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই দেশের বাহিরে বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। হুন্ডির মাধ্যমে আসা টাকা ছোট ছোট অঙ্কে বিভক্ত করে স্থানীয় এজেন্ট ও সমন্বয়কারীদের মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের নামে আসা বৈদেশিক অনুদানের একটি অংশ কৌশলে ঘুরিয়ে পোশাক অঞ্চলের তথাকথিত আন্দোলনের ফান্ডে পাঠানো হচ্ছে।
অস্থিরতা তৈরির ‘ব্লুপ্রিন্ট’ : তদন্তে প্রাপ্ত নথি ও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান প্রধান তৈরি পোশাক হাবগুলোয় একযোগে অচলাবস্থা তৈরির প্ল্যান করা হয়। কারখানাগুলোতে বকেয়া বেতন, হঠাৎ ছাঁটাই সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করা হচ্ছে। শ্রমিকের ছদ্মবেশে একদল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাশকতাকারী কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রুটগুলো অবরুদ্ধ করে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে ফেলা, যাতে ক্রেতাদের শিপমেন্ট যথাসময়ে না হতে পারে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পোশাক এলাকায় দফায় দফায় টাকা পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছি, যা তদন্তে নতুন মোড় নেয়। এটি একটি নিখুঁত চক্রান্ত।’
নাশকতার তালিকায় যাদের নাম : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা শ্রমিকদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কয়েকটি সংগঠন ও সেগুলোর নেতাদের একটি তালিকা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দিয়েছে। এতে কতিপয় সাধারণ শ্রমিক ও চাকরিচ্যুত শ্রমিকের নামও উঠে এসেছে। তালিকায় রাজধানীর মিরপুর এলাকার পাঁচটি গার্মেন্টসের অন্তত ১২ হাজার শ্রমিককে উসকে দেওয়ার পেছনে ‘মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’র সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন ইসলামের নাম এসেছে।
গাজীপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, ভোগড়া বাইপাস ও কালিয়াকৈরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ইন্ধন দেওয়ার পেছনে নাম রয়েছে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম (মাজহার), যুবলীগ নেতা খাত্তাম মোল্লা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম, শ্রমিক নেতা বাহার উদ্দিন, শাহ আলম, মনির, আসাদ, ফিরোজ, আল আমিন, শ্রমিক নেত্রী শাহনাজ, সুমি, রোজিনা, ডলি আক্তার, একতা গার্মেন্টস ফেডারেশনের নেত্রী সীমা আক্তার, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ওয়ার্কার্সের শ্রমিক নেতা জহির উদ্দিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা রাশেদুল, শ্রমিক আক্কাস, ইউরো আর্ট গার্মেন্টসের শ্রমিক হৃদয়, আইসিসিএল-এর বহিষ্কৃত শ্রমিক বুলু মিয়া ও রেনেসাঁ অ্যাপারেলসের শ্রমিক সাদেকুল ইসলাম। এদের মধ্যে হৃদয়, বুলু ও সাদেকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ছাড়া টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পাপাড় এলাকার স্টারলিং অ্যাপারেলস, এপেক্স ফুট ওয়ার, ট্রপিক্যাল নেটেক্স লিমিটেড, এসেন্সিয়াল ক্লোদিং লিমিটেডসহ শিশির নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের মালিক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তছলিম আহমেদ অন্তত ১ হাজার ২৫০ শ্রমিককে বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ওপর নজরদারি জোরদারে গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।
তালিকায় এনজিও সংগঠন : অর্থদাতার তালিকায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পাঁচ থেকে সাত এনজিওর নামও রয়েছে। মানবাধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আড়ালে এসব এনজিওর কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
সন্ত্রাসবিরোধ আইনে গ্রেপ্তার ছয় : গাজীপুর জেলা গার্মেন্টস টেইলার্স ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী আজগর, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মো. মোরর্শেদ আলম কাউছার, জেলা গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফা কামাল, গার্মেন্টস শ্রমিক নামক ফেসবুক গ্রুপের অ্যঅডমিন মো. ফুয়াদুর রহমান নির্জন, শ্রীপুর থানা শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আলতাফ হোসেনকে এরই মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয় আদালত।
আশুলিয়ার কবিরপুর, সাভার, হেমায়েতপুর, ইয়াপুর ও শিমুলিয়া এলাকার ১১টি গার্মেন্টস শ্রমিকদের উসকে দিয়েছেন স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি ও আঞ্চলিক সভাপতি আল কামরান, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. তুহিন চৌধুরী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ঐক্য ফেডারেশন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম এবং বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ঠা-ু। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসআই সাজবুল ইসলাম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে শ্রমিকদের উসকে দিয়েছেন। শ্রমিক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি এবং গুজব ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
পদ-পদবির আশায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ : শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা চালাতে ভালো পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঠে নামিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছে। আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দলটির নেতাকর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদে এমনটি জানিয়েছে। মিরপুরে নাশকতার অর্থদাতা হিসেবে নাম এসেছে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার একসময়ের পিয়ন অর্থ পাচারে আলোচিত পানি জাহাঙ্গীর ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের নাম।
ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত রবিবার মিরপুর থেকে ১১ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্য মতে, গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে মো. কামাল গাজী ও আরিফ আকন্দ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও দেওয়ার পর কামালকে ৩ হাজার ৫০০ আর আরিফকে ৩ হাজার টাকা পাঠায় নির্দেশদাতারা। আগুনের সেই ভিডিও মাঠে থাকা কর্মীরা ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফের ফোনে পাঠায় তিনটি মোবাইল থেকে।
সামাজিক মাধ্যম নজরদারিতে : উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে শ্রমিকদের উসকে দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিট, বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুই শতাধিক ফেসবুক পেজ ও ফেক আইডি শনাক্ত করা হয়েছে। নাশকতার প্রস্তুতির কথা জানানো ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা। এসব গ্রুপে নাশকতায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। নিষিদ্ধ দলের ২ শতাধিক কর্মীর সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা, মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম বাপ্পি, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের মামুন, পানি জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুল রহমান জুয়েল। এর মধ্যে আলিফ গ্রুপ বেশ শক্তিশালী হওয়ায় মিরপুরে আবারও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবি মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খান।
বন্ধ কারখানা শিগগির খুলে দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শিগগিরই বন্ধ গার্মেন্টস খোলার ব্যবস্থা হবে। কারণ শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া যা ছিল আমরা সেটা পূরণ করেছি। মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে, তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। শ্রমিক নেতা ও মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই সন্তুষ্ট। এই অস্থিরতার পরিকল্পনাতো ডিসেম্বরের ছিল। এর আগেই এ অস্থিরতায় গোয়েন্দা তৎপরতার অভাব ছিল কি না এই প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল এই অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা এটা কঠোর হস্তে দমন করব।
সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন : পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্র্নির্ধারণে বোর্ড গঠনের পরও শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ও সহিংসতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।