স্ট্রোক চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কী করবেন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ এএম

দেশে হাজারে ১১.৩৯ জনের মধ্যে স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে। দেশে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। মোট স্ট্রোক রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। ২০২৬ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে ‘বিই ফাস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ‘বি’ বা ব্যালান্সের ক্ষেত্রে হঠাৎ হাঁটাচলা বা চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো কিংবা মাথা ঘোরা, ‘ই’ বা আইজের ক্ষেত্রে হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা, ‘এফ’ বা ফেসের ক্ষেত্রে মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, ‘এ’ বা আর্মের ক্ষেত্রে এক পাশের হাত বা পা দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া এবং ‘এস’ বা স্পিচের ক্ষেত্রে কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা। ‘টি’ বা টাইমের অর্থ এসব লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। স্ট্রোক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সম্ভব।

নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ফাস্টফুড ও পোড়া তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো। এর মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি মারাত্মক রোগ, যার ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জটিলতা দেখা দেয় এবং হঠাৎ করেই মস্তিষ্কের একাংশ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ অত্যন্ত সংবেদনশীল। অক্সিজেন ও শর্করা সরবরাহে একটু হেরফেরে কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে। যদি মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয় (আঘাতজনিত কারণ ছাড়া) এবং তা ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী মৃত্যুবরণ করে, তাহলে এ অবস্থার নাম স্ট্রোক। স্ট্রোকের কারণে প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত)-এর মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়, কিছু স্ট্রোকে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। স্ট্রোক হলে শরীরের যেকোনো একদিকে হাত-পা ও মুখমন্ডল প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। ব্রেনের ভেতর স্ট্রোকটা যদি বাঁ দিকে হয়, তাহলে ডান দিকের হাত-পা এবং ডান দিকে স্ট্রোক হলে বাঁ দিকের হাত-পা প্যারালাইসিস হয়ে থাকবে। মোট কথা, ব্রেনের যে যে অংশ শরীরের যে যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সেই অংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে শরীরের ওই স্থানগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। স্ট্রোকের ধরন ও পরিমাপ অনুযায়ী প্যারালাইসিসের ধরন ও পরিমাপ নির্ভর করে। স্ট্রোকের লক্ষণ চিনে রোগীকে দ্রুত নির্দিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত