আর্জেন্টিনাকে টপকে এক ম্যাচে ৫৩ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলে 

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০০ পিএম

ফুটবল মাঠে গোল কিংবা নৈপুণ্যের রেকর্ডের দেখা মেলে তো হরহামেশাই। কিন্তু এবার বিশ্ব ফুটবলে এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক বয়সভিত্তিক ম্যাচ, যা ছাড়িয়ে গেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রেকর্ডকেও। ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ সেমিফাইনালে উবেরলান্দিয়া ও মামোরে ম্যাচের পর দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও অফিসিয়ালদের মিলিয়ে মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারী। 

২০১১ সালে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচ আতলেতিকো ক্লাইপোল ও ভিত্তোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যকার লাল কার্ডের সংখ্যাটি ছিল ৩৬। এত দিন সেটিই ছিল গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ড। তবে এবার আর্জেন্টিনার সেই ৩৬ লাল কার্ডের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখল ব্রাজিল।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মামোরে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মাঠে শুরু হয় হাতাহাতি ও তুমুল তাণ্ডব। রেফারী ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসগিক মোদেস্তোর ম্যাচের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে মামোরের ফরোয়ার্ড দাভি গোল করার পর স্বাগতিক উবেরলান্দিয়ার ডাগআউটের সামনে গিয়ে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি ও গালিগালাজ শুরু করেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উবেরলান্দিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস দৌড়ে মাঠে ঢুকে সেই ফুটবলারকে ধাক্কা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী ও উন্মুক্ত মারামারিতে রূপ নেয়, যেখানে দুই দলের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফরা একে অপরকে ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন।

ম্যাচ শেষে রেফারী যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তাতে উঠে এসেছে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও ভীতিকর তথ্য। লাল কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন ও মামোরের ২৯ জন ফুটবলার ও স্টাফ ছিলেন। ম্যাচ চলাকালীন ও ম্যাচ শেষে রেফারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মিনাস জেরাইস ফুটবল ফেডারেশনের কাছে দেওয়া ম্যাচ প্রতিবেদনে রেফারী ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তো জানান, ‘মাঠে এমন বিশৃঙ্খলা ও মারামারি তৈরি হয়েছিল যে শারীরিকভাবে খেলোয়াড়দের কাছে গিয়ে পকেট থেকে লাল কার্ড বের করে দেখানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’ 

রেফারী তার প্রতিবেদনে আরও স্পষ্ট করেছেন, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে স্বাগতিক উবেরলান্দিয়ার বল-বয়রাও মামোরের ফুটবলারদের লক্ষ্য করে জিনিসপত্র ছুড়ে মারে ও লাথি চালাতে থাকে। এছাড়া ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হওয়ার পর উবেরলান্দিয়ার এক কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের ওয়াটার কুলার ও সরঞ্জাম পাশের খাদে ফেলে দেন এবং মামোরের খেলোয়াড়রা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত